ওমানের রাজধানী মাস্কাটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ পারমাণবিক আলোচনা শেষ হওয়ার পর একে ‘ভালো সূচনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি বলেছেন, এই আলোচনা অব্যাহত রাখা সম্ভব এবং আলোচনার ধারাবাহিকতা নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে একটি ঐকমত্যের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত আলোচনার পর রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন আরাগচি।
তিনি বলেন, “আলোচনা কীভাবে এগোবে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজধানীগুলোর সঙ্গে পরামর্শের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে আলোচনার ধারাবাহিকতা নিয়ে একটি ঐকমত্য রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।”
আরাগচি জানান, কয়েক ঘণ্টার নিবিড় পরামর্শের পর একটি ইতিবাচক পরিবেশে এই পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা ধরে একাধিক দফায় পরোক্ষ বৈঠক ও পরামর্শ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাইয়্যেদ বদর আল বুসাইদি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং দুই পক্ষের বার্তা ও দৃষ্টিভঙ্গি আদান–প্রদানে সহায়তা করেন।
তিনি বলেন, “দীর্ঘ বিরতির পর অনুষ্ঠিত এই আলোচনায় ইরানের অবস্থান ও উদ্বেগ স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে। ইরানি জনগণের স্বার্থ, তাদের অধিকার এবং যেসব বিষয় বলা প্রয়োজন ছিল, সবই অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে উপস্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে অপর পক্ষের বক্তব্যও শোনা হয়েছে।”
পরবর্তী দফা আলোচনার সময়সূচি ও কাঠামো ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মাধ্যমে পরামর্শের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হবে বলে জানান আরাগচি। তিনি বলেন, ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধের পর গত আট মাসে যে গভীর অনাস্থার পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে ওঠাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তার ভাষায়, “এই অনাস্থা দূর করতে পারলেই একটি নতুন সংলাপের কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”
আলোচনাগুলো কেবল পারমাণবিক ইস্যুতেই সীমাবদ্ধ থাকবে উল্লেখ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমাদের আলোচনা শুধুমাত্র পারমাণবিক বিষয়ক। অন্য কোনো বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমরা কথা বলছি না।”
তিনি আরও জোর দিয়ে বলেন, পারমাণবিক আলোচনা অবশ্যই শান্ত পরিবেশে, উত্তেজনা ও হুমকিমুক্ত অবস্থায় হতে হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির খবরে জানানো হয়, ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তার সঙ্গে ছিলেন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মাজিদ তাখত-রাভানচি, কাজেম ঘরিবাদি, হামিদ কানবারি এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেয়ি।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে আলোচনায় নেতৃত্ব দেন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ। তার সঙ্গে ছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা ও উপদেষ্টা জ্যারেড কুশনার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর