আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পটুয়াখালী ও পাবনায় নির্বাচনী সহিংসতা, হামলা ও অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে সংশ্লিষ্ট থানার ওসিদের প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির নেতাদের অভিযোগ, মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন না করায় এসব এলাকায় সুষ্ঠু নির্বাচনী পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে।
রোববার (০৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে এক জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এসব অভিযোগ করেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসান মাহবুব জুবায়ের। পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এই বৈঠকে অংশ নেন।
প্রশাসনের পক্ষপাতিত্ব ও ওসির প্রত্যাহারের দাবি :
অ্যাডভোকেট জুবায়ের অভিযোগ করেন, পটুয়াখালীর বাউফল আসনে জামায়াতের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদের নির্বাচনী এলাকায় পুলিশ চরম পক্ষপাতিত্ব করছে। তিনি বলেন, “বাউফলের ওসি চূড়ান্তভাবে একপেশে আচরণ করছেন। তিনি বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে জামায়াতের অফিস রেইড করছেন। এই ওসি বহাল থাকলে সেখানে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই অবিলম্বে বাউফলের ওসির প্রত্যাহার দাবি করেছি।
ঢাকা-১৫ ও পাবনায় সহিংসতা:
তিনি জানান, ঢাকা-১৫ আসনে (যেখানে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন) এবং পাবনায় নিয়মিত সন্ত্রাসী হামলা ও অফিস ভাঙচুর হচ্ছে। পাবনায় জেলা আমিরের ওপর হামলা এবং মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, সেখানে নারী কর্মীদের ওপরও হামলা চালানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও ইউএনও-রা এসব দেখেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না।
নারী ভোটারদের ওপর হয়রানি:
নির্বাচনী প্রচারণায় নারী কর্মীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন ও হেনস্তার অভিযোগ এনে জামায়াত নেতারা বলেন, বাউফল, পাবনা ও ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নারী ভোটারদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। এছাড়া, জামায়াতের পক্ষ থেকে লক্ষাধিক বোরকা বানানো হচ্ছে, এমন প্রচারণাকে ‘কাল্পনিক নাটক’ হিসেবে অভিহিত করেন অ্যাডভোকেট জুবায়ের। তিনি বলেন, “নারীদের মধ্যে সংশয় তৈরি করতে এবং তাদের নির্বাচনবিমুখ করতেই এমন উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব ছড়ানো হচ্ছে। যেখানে অর্ধেক ভোটার নারী, সেখানে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কমিশনের বড় দায়িত্ব।”
ডা. শফিকুর রহমানের টুইটার বিতর্ক ও হ্যাকিং প্রসঙ্গ:
সম্প্রতি ১১টি নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের আবেদনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জুবায়ের বলেন, “জামায়াত ইসলাম নারীদের সর্বোচ্চ সম্মানের চোখে দেখে। আমিরে জামাতের টুইটার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক করা হয়েছিল। আমরা সেটি উদ্ধার করেছি এবং তদন্তে দেখা গেছে, বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তার ইমেইল থেকে ভাইরাস ছড়িয়ে এটি করা হয়েছে। ওই ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তারও করেছে। এটি মূলত জামায়াতের নারী সমর্থনের জোয়ার দেখে একটি মহলের চক্রান্ত।
তিনি আরো বলেন, বৈঠকে জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রার্থীদের নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয় নেতাদের চলাচলের জন্য গাড়ি ও পাস ইস্যু এবং সাংবাদিকদের নির্ভয়ে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছি। এছাড়া বিভিন্ন অনিয়মের বিভিন্ন আমরা কূটনৈতিকদেরও জানাচ্ছি।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর