বগুড়ার নন্দীগ্রামে জামায়াত ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে আহত বিএনপি নেতা মাসুদ রানার চোখ হারানোর খবরে তাঁর মা হাজেরা বেগম (৭০) গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মারা গেছেন।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, গত সোমবার রাতে নন্দীগ্রামে ভোটারদের প্রভাবিত করতে টাকা বিতরণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় টাকা বিতরণের অভিযোগে জামায়াতের দুই কর্মীকে আটক করে বিএনপির কর্মীরা। পরে জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাদের উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। সংঘর্ষের একপর্যায়ে জামায়াতের নেতাকর্মীরা বিএনপি নেতা মাসুদ রানার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও মারধর করে বলে অভিযোগ ওঠে। এতে মাসুদ রানা গুরুতর আহত হন এবং তাঁর একটি চোখ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
পরে আহত অবস্থায় মাসুদ রানাকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁর একটি চোখ হারানোর আশঙ্কা প্রকাশ করেন। এ খবর পরিবারে পৌঁছালে মাসুদ রানার মা হাজেরা বেগম মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
আহত মাসুদ রানার ছেলে সিয়াম আকন্দ জানান, হামলার ঘটনার পর বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের কাছ থেকে বাবার একটি চোখ হারানোর আশঙ্কার কথা জানার পর দাদি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর চিকিৎসকের কাছে নেওয়ার আগেই তিনি মারা যান। তিনি এ হামলার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন। মাসুদের মায়ের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
এ ঘটনায় বগুড়া-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য ও বগুড়া জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মোশাররফ হোসেন গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর