ভোটের দিন। তাই সকাল সকাল ঘরের কাজ শেষ করে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার নারীদের জন্য এমন দৃশ্য গত ৫৪ বছরে দেখা যায়নি। এতদিন পরিবারের পুরুষরা ভোট নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও, নারীরা পীরের অনুরোধকে আদেশ মনে করে ভোট দেওয়া থেকে বিরত থাকতেন। অবশেষে সেই দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে ইউনিয়নের নারীরা যোগ দিলেন ভোটের উৎসবে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সকাল থেকেই ওই ইউনিয়নের ৮টি কেন্দ্রের ২০টি বুথে নারীদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। যা গত ৫৪ বছরেও দেখা যায়নি। জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও প্রার্থীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই পরিবর্তন সম্ভব হয়েছে।
উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সেটু কুমার বড়ুয়া জানান, দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ৮টি কেন্দ্রের ১০ হাজার ২৯৯ জন নারী ভোটারের মধ্যে ৪ হাজার ১১৯ জন ভোট দিয়েছেন, যা মোট নারী ভোটারের প্রায় ৪০ শতাংশ। দিনশেষে এ হার ৫০ শতাংশ ছাড়াবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। অথচ গত ৫৪ বছরে নারীদের অংশগ্রহণ ছিল নগণ্য। দুই-একটি নির্বাচনে প্রার্থীদের আত্মীয়স্বজনরা ভোট দিলেও তা কখনো উল্লেখযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
সরেজমিন বৃহস্পতিবার রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের কাউনিয়া শহীদ হাবিব উল্ল্যা উচ্চ বিদ্যালয়, শহীদ স্মৃতি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, চর মান্দারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গৃদকালিন্দিয়া উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র পরিদর্শনে গিয়ে ভোট দিতে আসা বহু নারীর সঙ্গে কথা হয়।
নব্বই বছর বয়সী ময়ফুলেন নেছা জানান, জীবনে এই প্রথম ভোট দিতে এসেছেন। তার ভাষায়, “খুব ভালো লাগছে।” অনেক নারী জানান, প্রশাসনের উৎসাহ ও আলাদা ব্যবস্থাপনার কারণে তারা ভোট দিতে উৎসাহিত হয়েছেন। এতদিন পীরের অনুরোধে ভোট দেননি। ফলে নিজেদের অধিকার থেকেও বঞ্চিত ছিলেন। নতুন ভোটার এক নারী বলেন, “প্রথমবার ভোটার হয়েই ভোট দিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।”
দক্ষিণ চর মান্দারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিতে আসা ৯০ বছর বয়সী মহিফুলের নেছা বলেন, “এই প্রথম জীবনে ভোট দিলাম।”
চর মান্দারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিসাইডিং অফিসার আব্দুস সামাদ জানান, নারীদের জন্য সব কর্মকর্তা নারী রাখা হয়েছে। এতে করে তারা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন এবং দীর্ঘদিনের প্রথা ভেঙে ভোট দিচ্ছেন।
গৃদকালিন্দিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রের প্রিসাইডিং অফিসার একেএম লোকমান হাকিম জানান, প্রথমবারের মতো নারীরা ভোট দিতে এসেছেন। দীর্ঘ লাইন। তবে ভোটদানের পদ্ধতি না জানায় কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।
রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির জানান, আমাদের প্রচেষ্টার ফলস্বরূপ নির্বাচনে নারীদের ব্যাপক উপস্থিতি।
রূপসা দক্ষিণ ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ বলেন, নারীদের ব্যাপক উপস্থিতিতে আমি খুশি।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর