ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে বগুড়ার সাতটি সংসদীয় আসনের সবকটিতেই জয় পেয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থীরা। এর মধ্যে ছয়টি আসনে বিপুল ভোটের ব্যবধানে এবং একটি আসনে তুলনামূলক কম ব্যবধানে জয় এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত ১টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। সব আসনেই বিএনপির নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর প্রার্থীরা।
বগুড়া-১ (সারিয়াকান্দি–সোনাতলা)
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী কাজী রফিকুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৮৬১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. শাহাবুদ্দিন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ৫৬ হাজার ৯৩৩ ভোট। জয়ীর ব্যবধান ১ লাখ ১২ হাজার ৯২৮ ভোট।
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ)
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মীর শাহে আলম মোট ১ লাখ ৪৫ হাজার ১৩৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের শাহাদুজ্জামান পান ৯২ হাজার ৪৩৩ ভোট। ব্যবধান ৫২ হাজার ৭০৫ ভোট। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১১৪টি এবং ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৩৪০ জন।
বগুড়া-৩ (দুপচাঁচিয়া–আদমদীঘি)
বিএনপির আব্দুল মহিত তালুকদার ১ লাখ ২৭ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের নূর মোহাম্মদ পান ১ লাখ ১১ হাজার ২৬ ভোট। এখানে ব্যবধান ছিল ১৬ হাজার ৩৮০ ভোট, যা সাত আসনের মধ্যে সবচেয়ে কম।
বগুড়া-৪ (কাহালু–নন্দীগ্রাম)
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোশাররফ হোসেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ৬১৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। জামায়াতের প্রার্থী পান ১ লাখ ৮ হাজার ১৬৫ ভোট। ব্যবধান প্রায় ৪৬ হাজার ভোট। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ছিল ১১৪টি এবং ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৩ জন।
বগুড়া-৫ (শেরপুর–ধুনট)
বিএনপির গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৪১ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মো. দবিবুর রহমান পান ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৯ ভোট। ব্যবধান ১ লাখ ৫ হাজার ৫১২ ভোট।
বগুড়া-৬ (সদর)
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ধানের শীষ প্রতীকে ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বিপুল ব্যবধানে জয়ী হন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আবিদুর রহমান সোহেল পান ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। ব্যবধান ১ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৮ ভোট।
বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর–গাবতলী)
বিএনপির মোরশেদ মিল্টন ২ লাখ ৬২ হাজার ৫০১ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের গোলাম রব্বানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পান ১ লাখ ১৫ হাজার ১৮৪ ভোট।
বগুড়ার সাতটি আসনের মধ্যে ছয়টিতে বড় ব্যবধানে এবং একটিতে তুলনামূলক কম ব্যবধানে জয় পেয়েছে বিএনপি। প্রতিটি আসনেই প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল জামায়াতে ইসলামী। জেলার নির্বাচনী ফলাফল বিএনপির জন্য বড় রাজনৈতিক বার্তা হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর