ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের ময়েনদিয়া বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত বাজার ও আশপাশের এলাকায় চলা এ সংঘর্ষে অন্তত ১৯ জন আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ময়েনদিয়া বাজারটি পরমেশ্বরদী ইউনিয়ন ও পাশের সালথা উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। একটি নদী দুই উপজেলাকে বিভাজিত করেছে এবং নদীর ওপর নির্মিত একটি সেতু দিয়ে উভয় উপজেলার যোগাযোগ বজায় থাকে। গুরুত্বপূর্ণ এই বাজারের আধিপত্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল।
অভিযোগ রয়েছে, শনিবার সকালে বড়খারদিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং যুদ্ধাপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি আবুল কালাম আজাদ–এর ছেলে মুশফিক বিল্লাহ জিহাদ ও তার সহযোগী টুলু মিয়ার সমর্থকেরা বাজারে গিয়ে হামলা চালায়। এতে পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বরের সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়। সংঘর্ষ চলাকালে মান্নান মাতুব্বরের সমর্থক জাকির খানের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং খোকন মহলদার, রাজ্জাক মহলদার, আলামিন শিকদার, ফরিদ মুন্সী, দেলোয়ার মহলদার ও নুর ইসলাম সিকদারের বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। এছাড়া আরও কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে এবং একটি বাড়ির পাটকাঠির গাদায় আগুন দেওয়া হয়।
সংঘর্ষে আহতদের বোয়ালমারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল–এ ভর্তি করা হয়েছে। তারা সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ঘটনার খবর পেয়ে সালথা ও বোয়ালমারী থানা পুলিশ এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও সেনাবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (সালথা–নগরকান্দা সার্কেল) মাহমুদুল হাসান জানান, বাজারের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ময়েনদিয়া ও খারদিয়া এলাকার দুই পক্ষের বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। অভিযান চালিয়ে দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার এবং কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রসঙ্গত, পরমেশ্বরদী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মান্নান মাতুব্বর আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং সদ্য অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–সমর্থিত প্রার্থী খন্দকার নাসিরুল ইসলাম নাসিরের পক্ষে প্রচার-প্রচারণা করেছিলেন। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়েছিলেন। স্থানীয়দের দাবি, পূর্বের বিরোধ ও আধিপত্যের দ্বন্দ্বের ধারাবাহিকতায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর