আজ ২১ ফেব্রুয়ারি, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। ১৯৫২ সালের এই দিনে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে আন্দোলনরত ছাত্রদের ওপর তৎকালীন পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, শফিউর, জব্বারসহ অনেকেই শহীদ হন। তাদের আত্মত্যাগের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে দিনটি দেশব্যাপী যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে।
একুশের প্রথম প্রহরে রাত ১২টা ১ মিনিটে রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার-এ পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর রাত ১২টা ৪০ মিনিট থেকে সর্বসাধারণের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দিবসটি ঘিরে রাজধানীসহ সারা দেশে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)-এর প্রায় ১৫ হাজার সদস্য রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ভাষা আন্দোলনের সূচনা হয় ১৯৪৭ সালের নভেম্বর-ডিসেম্বরে তৎকালীন পূর্ব বাংলার রাজধানী ঢাকায়। ১৯৪৮ সালের মার্চে আন্দোলন আরও বিস্তৃত হয় এবং ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি তা চূড়ান্ত রূপ নেয়। সেদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর শিক্ষার্থীরা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে মিছিল বের করলে পুলিশ গুলি চালায়। এতে কয়েকজন ছাত্র শহীদ হন। পরদিন ২২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ মানুষ প্রতিবাদে রাজপথে নেমে আসে এবং মেডিকেল কলেজ হোস্টেল প্রাঙ্গণে গায়েবি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
ভাষা শহীদদের স্মরণে ২৩ ফেব্রুয়ারি রাতারাতি একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হলেও ২৬ ফেব্রুয়ারি তা ভেঙে ফেলা হয়। তবে এই ঘটনার মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। পরে ১৯৫৪ সালের নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের বিজয়ের পর বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেওয়ার পথ সুগম হয়। ১৯৫৬ সালের সংবিধানে সংশোধনের মাধ্যমে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
বাংলা ভাষা আন্দোলনের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আসে যখন জাতিসংঘ ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এর ফলে দিনটি এখন শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বজুড়ে ভাষার অধিকার ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার প্রতীক হিসেবে পালিত হচ্ছে।
আজকের এই দিনে ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছে সমগ্র জাতি। তাদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বাংলা ভাষা আজ স্বাধীন বাংলাদেশের পরিচয়, গর্ব ও অস্তিত্বের প্রতীক।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর