• ঢাকা
  • ঢাকা, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১ মিনিট পূর্বে
শেখ সাদী ভূইয়া
যবিপ্রবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ০৩:০৮ দুপুর

যবিপ্রবিতে অনিবন্ধিত ক্লাবের ফুল দেওয়া নিয়ে বিতর্ক, উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (যবিপ্রবি) গত ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে একটি অনিবন্ধিত ক্লাবকে ফুল দিতে দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিবন্ধিত ক্লাবগুলো অনুষ্ঠান বয়কট করে। ঘটনাটি মধ্যরাতে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেওয়ার মাধ্যমে চরম আকার ধারণ করে। তিন ঘণ্টা পর যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ এসে উক্ত ঘটনার এক কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের আশ্বাস দিলে ক্লাব প্রতিনিধিরা ফিরে যায়।

২১শে ফেব্রুয়ারির প্রথম প্রহরে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। ক্লাব প্রতিনিধিদের প্রশ্ন ছিল— জাতীয়তাবাদী শিক্ষার্থী ফোরাম নামক সংগঠনটি নিবন্ধিত নাকি অনিবন্ধিত, সে ঘোষণা করতে হবে; গঠনতন্ত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জমা না দিলে বেনামি কেন হবে না; শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের জন্য নিয়ম ভঙ্গ করে সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রশাসনের ওপর কোনো চাপ প্রয়োগ করা হয়েছিল কি না।

এদিকে এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী শিক্ষার্থী ফোরাম জানায়, জাতীয়তাবাদী মানে হচ্ছে দেশপ্রেম। তাই সকল ক্লাবের ঊর্ধ্বে হচ্ছে জাতীয়তাবাদ। এ কারণেই অন্যান্য ক্লাবের আগে ফুল দিয়েছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষার্থী ফোরাম।

সরেজমিনে দেখা যায়, ২১শে ফেব্রুয়ারি শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে যবিপ্রবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাত বারোটায় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ চলছিল। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, কোষাধ্যক্ষ, ডিনস কমিটি, বিভাগ ও দপ্তরসমূহ পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে নিবন্ধিত ক্লাবগুলোর পুষ্পস্তবক অর্পণ পর্ব শুরু হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের তালিকা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির ফুল দেওয়া শেষ হলে বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেট ক্লাবের ফুল দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ডিবেট ক্লাবের প্রতিনিধিরা উপস্থিত না থাকায় নিয়ম ভঙ্গ করে অনিবন্ধিত ক্লাব ‘জাতীয়তাবাদী শিক্ষার্থী ফোরাম, যবিপ্রবি’-এর নাম ঘোষণা করা হয়। এতে নিবন্ধিত ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিরা তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেন, ফুল দেওয়ার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বয়কট করেন এবং পরে আনুষ্ঠানিকভাবে পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠান শেষ হলে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাস্বরূপ নিবন্ধিত ক্লাবগুলো তাদের ফুলসমূহ শহীদ মিনারে নিবেদন করে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত আয়োজক কমিটি ও অন্যান্য শিক্ষকরা ক্লাব প্রতিনিধিদের প্রশ্নসমূহের সঠিক জবাব দিতে না পারায় পরবর্তীতে রাত দেড়টার দিকে তারা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন। তিন ঘণ্টা পর, শেষ রাত চারটায় উপাচার্য শিক্ষার্থীদের মাঝে উপস্থিত হন। আগামী এক কর্মদিবসের মধ্যে শিক্ষার্থীদের প্রশ্নগুলোর সঠিক উত্তর রিপোর্ট আকারে প্রকাশের আশ্বাসে উপাচার্যের বাসভবন ছেড়ে আসে শিক্ষার্থীরা। নিবন্ধিত ক্লাবগুলোর প্রতিনিধিরা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল দপ্তর ও বিভাগ পুষ্পস্তবক প্রদান করছিল। সেখানে একটি অনিবন্ধিত ও বেনামী সংগঠন ফুল দেওয়ার জন্য শহীদ মিনারে ওঠে। এই সংগঠনের কোনো গঠনতন্ত্র প্রশাসনের কাছে নেই। বিষয়টি জানার পর আমরা ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালককে জানাই। তিনি পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করেন। একটি অনিবন্ধিত সংগঠন অন্য সব নিবন্ধিত ক্লাবের আগে ফুল দিতে যাবে কেন— এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রশাসন আমাদের কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেনি। পরবর্তীতে আমরা নিবন্ধিত ক্লাবগুলো নিজ উদ্যোগে পুষ্পস্তবক প্রদান করি।

তারা আরও বলেন, ঘটনাস্থলে থাকা আয়োজক কমিটি ও অন্যান্য শিক্ষকরা আমাদের কোনো সমাধান দিতে পারেননি। উপাচার্য স্যারের সঙ্গে কথা বলার জন্য আমরা তাঁর বাসভবনের সামনে তিন ঘণ্টা ধরে অবস্থান করি। এক পর্যায়ে উপাচার্য আসলে আমরা আমাদের প্রশ্নগুলো করি এবং এক কর্মদিবসের মধ্যে রিপোর্ট প্রকাশ করার আল্টিমেটাম দিই। উপাচার্য স্যার তা বাস্তবায়নের কথা দিলে আমরা ফিরে আসি। তবে রিপোর্ট প্রকাশে ব্যর্থ হলে আমরা কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব।

এ বিষয়ে ফুল দেওয়া আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের পরিচালক ড. রাফিউল হাসান বলেন, “আজ শহীদ মিনারে পুষ্প অর্পণের জন্য প্রায় ২০টি ক্লাবের তালিকা করা হয়েছিল। সেখানে একটি ক্লাব অনুপস্থিত থাকায় তার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করা একটি ফোরামকে পুষ্প অর্পণের সুযোগ দেওয়া হয়। মাঝখানে অন্য একটি সংগঠনকে সুযোগ দেওয়া অন্যান্য ক্লাবের প্রতি অসম্মান করা হয়েছে। আমাদের দ্বারা এটি করা ঠিক হয়নি। এ জন্য আমি দুঃখিত।”

এ ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে যবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মজিদ বলেন, “ঘটনাটি আমার নজরে ছিল না। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে ২১শে ফেব্রুয়ারির আয়োজক কমিটি ও প্রক্টোরিয়াল বডির সঙ্গে বসে ঘটনার অদ্যোপান্ত জেনে তাদের প্রশ্নগুলোর উত্তর দেওয়া হবে।”

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]