বগুড়ায় এক এলজিইডি কর্মকর্তাকে কফি পানের আমন্ত্রণ জানিয়ে কৌশলে অপহরণ, মারধর এবং নারীর সঙ্গে আপত্তিকর ছবি তুলে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটেছে। এই অভিযোগে গাবতলী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক এক নেতাসহ চারজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি (সোমবার) বিকেলে বগুড়া শহরের রানার প্লাজার সামনে থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কর্মকর্তা বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় মামলা দায়ের করেছেন। গ্রেফতারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত প্রধান আসামি মাহমুদুল হাসান ওরফে মোহন (৩১) গাবতলী উপজেলার মহিষাবান সরকারপাড়া গ্রামের মৃত বাছেদ সরকারের ছেলে। তিনি গাবতলী উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক।
গ্রেফতার অন্য তিনজন হলেন—একই উপজেলার ক্ষিদ্রপেড়ী এলাকার আশরাফ আলীর ছেলে মেহেদী হাসান (১৯), তরফসরতাজ এলাকার গোলাম রব্বানীর ছেলে রবিউল ইসলাম রকি (২১) এবং দাঁড়াইল এলাকার ছালেকের ছেলে আশেকুল ইসলাম (১৯)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী ব্যক্তি এলজিইডি বগুড়া সদর কার্যালয়ে কার্য সহকারী হিসেবে কর্মরত। কিছুদিন আগে মোছাঃ শাহানাজ পারভিন নামের এক নারীর সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার পরিচয় হয়। ওই নারী নিজেকে এলজিইডি ঢাকা অফিসের আউটসোর্সিং কর্মী পরিচয় দিয়ে সখ্যতা গড়ে তোলেন।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ওই নারী তাকে শহরের জলেশ্বরীতলা এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে কফি পানের আমন্ত্রণ জানান। সেখানে পৌঁছালে লিফটের সামনে কয়েকজন যুবক তার পথরোধ করে এবং জোরপূর্বক একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, অপহরণের পর তাকে মারধর করা হয় এবং ওই নারীর সঙ্গে জোরপূর্বক আপত্তিকর ছবি তুলে তা ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। একপর্যায়ে তাকে বিয়ের ভয় দেখিয়ে ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তার কাছ থেকে নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
এছাড়া সোনালী ব্যাংকের একটি চেকে জোরপূর্বক ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা লিখিয়ে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং ৩০০ টাকার তিনটি ফাঁকা নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পেও স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয়। বগুড়া সদর থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ১৯ ফেব্রুয়ারি বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রানার প্লাজার সামনে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়।
এসময় প্রধান আসামি মাহমুদুল হাসান মোহনের কাছ থেকে নগদ ২০ হাজার টাকা ও ভুক্তভোগীর স্বাক্ষর করা ১ লাখ ৮০ হাজার টাকার চেক উদ্ধার করা হয়। অপর আসামি মেহেদী হাসানের কাছ থেকে স্বাক্ষর করা স্ট্যাম্প ও ঘটনায় ব্যবহৃত মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়।
এ ঘটনায় বগুড়া সদর থানায় দণ্ডবিধির ৩৪১/৩৬৫/৩৮৫/৩৮৬/৪৬৭/৫০৬ ধারায় মামলা (নং-৫৪) রুজু হয়েছে। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ আলী বলেন, এলজিইডি কর্মকর্তাকে ব্ল্যাকমেইল ও মারধরের ঘটনায় এ পর্যন্ত চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও একজন জড়িত রয়েছে, তাকেও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক তাদের জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাদের আটকের আবেদন জানানো হয়েছে।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর