পটুয়াখালীর এক প্রত্যন্ত জনপদে নিজ উদ্যোগে মশলার ব্যবসা করে স্বাবলম্বী হয়েছেন হাফেজ মাওলানা শফিকুল ইসলাম। ধনিয়া, হলুদ, শুকনো মরিচসহ বিভিন্ন মশলার কাঁচামাল গ্রাম থেকে সংগ্রহ করে নিজ হাতে প্রক্রিয়াজাত করে এখন তিনি মাসে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করছেন।
একসময় ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি মসজিদে ইমামতি করতেন শফিকুল ইসলাম। পাশাপাশি মশলার ব্যবসা করে সচ্ছল জীবনযাপন করছিলেন। দীর্ঘ ১৬ বছর এভাবেই কাটে তার জীবন।
কিন্তু নিজ গ্রামের এক বেদনাদায়ক বাস্তবতা তাকে নাড়া দেয়। এলাকায় খ্রিষ্টান মিশনারি তৎপরতা বৃদ্ধির খবর পেয়ে তিনি উপলব্ধি করেন—দীনের স্বার্থে গ্রামে ফেরা প্রয়োজন। লাভজনক ব্যবসা ও ঢাকার স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবন ছেড়ে ফিরে আসেন জন্মভূমিতে।
গ্রামে ফিরে এলাকাবাসীর সহায়তায় একটি মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। তবে পরিবারসহ বসবাসের জন্য ঘর নির্মাণ করতে গিয়ে তার সঞ্চিত পুঁজি শেষ হয়ে যায়। শুরু হয় অর্থনৈতিক সংকট।
এ সময় যাকাতের অর্থে পরিচালিত একটি দক্ষতাভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি প্রকল্পের খবর পান তিনি। পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে মশলার ব্যবসার জন্য আবেদন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকার সহায়তায় দোকান, মশলা ভাঙানোর মেশিনসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কিনে দেওয়া হয়।
বর্তমানে তিনি স্থানীয় কৃষকদের কাছ থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে পরিষ্কার করেন, রোদে শুকান এবং নিজস্ব মেশিনে মাড়াই করেন। এরপর প্যাকেটজাত করে পাইকারি ও খুচরা বাজারে বিক্রি করেন।
আলহামদুলিল্লাহ, এখন তিনি স্বাবলম্বী। তার সংসারে রয়েছেন মা, স্ত্রী ও তিন সন্তান। ব্যবসার আয়েই চলছে সংসার, পূরণ হচ্ছে প্রয়োজন ও সাধ-অহ্লাদ।
যাকাতের সঠিক ব্যবহারে বদলে যাচ্ছে অসংখ্য মানুষের জীবন। শফিকুল ইসলামের মতো অনেকেই নতুন করে স্বপ্ন দেখছেন, মলিন মুখে ফুটছে সফলতার হাসি।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর