প্রত্যেক দেশে স্ব স্ব সরকারি ঘোষণা মতে রোজা, ঈদ, কুরবানী ইত্যাদি পালন করা এটাই শরীয়তের সঠিক সিদ্ধান্ত। যারা একই দিনে সারা পৃথিবীতে রোজা, ঈদ, কুরবানী ইত্যাদি ধর্মীয় ইবাদত পালন করার কথা বলেছেন তাদের ব্যাপারে বলতে চাই কুরআন, হাদিস, ইজমা-এর বিপরীতে কোনো ফতুয়া গ্রহণ যোগ্য নয়। যদি এর বিপরীতে কেউ ফতুয়া দেয়ার চেষ্টা করেন তা হবে শরিয়তের উপর জুলম ।
হুজুর (দঃ)-এর আমল, সাহাবীগণের আমল থেকে শুরু করে ১৪ শত বছর যাবৎ যে আমল চলে আসছে তার বিপরীত কোনো মত গ্রহণ যোগ্য নয়। এই সম্পর্কে আল্লাহ পাক বলেন, তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই মাস পাবে সে যেন রোজা রাখে। (সূরা-বাকারা-১৮৩) আল্লাহ পাক আরও বলেন, তোমরা রোজা কে পূর্ণ করো রাত্রি পর্যন্ত । (সূরা-বাকারা-১৮৭) (উক্ত দুই আয়াতে স্থায়ীন ভাবে চাঁদ দেখে সিয়াম পালন করা এবং সূর্যাস্থের সাথে সাথে ইফতার করা বুঝানো হয়েছে।) হাদিস শরীফে হুজুর (দঃ) এরশাদ করেন, তোমরা চাঁদ দেখে রোজা রাখো এবং চাঁদ দেখে রোজা ভঙ্গ করো। যদি আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকে তবে মাস ৩০ দিন গণনা করো। (এই হাদিসেও স্থানীয় ভাবে চাঁদ দেখার কথা বলা হইয়াছে। কারণ আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয় স্থানীয় ভাবে । সারা পৃথিবী একত্রে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন হয় না।)
হযরত কুরাইব (রা.) বর্ণিত হাদিসে ইবনে আব্বাস (রা.) ইমাম মুয়াবিয়া (রা.) সহ সিরিয়া বাসীর চাঁদ দেখাকে অনুসরণ করেন নাই। তিনি বলেছেন, হুজুর (দঃ) আমাদের কে এই ভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, আমরা যেন স্ব স্ব দেশের স্থানীয় ভাবে চাঁদ দেখে রোজা ঈদ পালন করি। (মুসলিম, তিরমিজি, আবু দাউদ)ইমাম তিরমিজি অধ্যায়ের শিরোনামে লিখেছেন, প্রত্যেক দেশ বাসী স্ব স্ব দেশের আকাশে নতুন চাঁদ দেখা প্রযোজ্য । ইমাম আবু দাউদ এবং ইমাম নাসায়ী অনুরূপ শিরো নামে অধ্যায় রচনা করেছেন। অন্য হাদিছে হুজুর (দঃ) এরশাদ করেন, যাহার সফরে গমন করার এমন কোনো যানবাহন রহিয়েছে যা তাকে আরামের সাথে গন্তব্যে পৌছায় সে যেন রোজা রাখে যেখানেই সে রমজান মাস পায়। (আবু দাউদ, মেশকাত) (এই দাহিসেও স্থাণীয় ভাবে পালন করার কথা বলা হয়েছে) ।
সাহাবীগণ ইমলাম প্রচারে বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়েছিলেন, তাঁরা সবাই সেই দেশের চাঁদ দেখাকেই অনুসরণ করেছেন। কোনো সাহাবী অন্য কোনো দেশের চাঁদ দেখার খবর সংগ্রহ করেছেন অথবা অনুসরণ করেছেন এমন কোনো প্রমান বা ইতিহাস নাই। হযরত ওমর (রা.) অর্ধ পৃথিবীর বাদশা ছিলেন, তাঁর যুগেও প্রত্যেক দেশ স্ব স্ব আকাশের চাঁদ দেখাকে অনুসরণ করেছেন। হুজুর (দঃ) নির্দেশ দিয়েছেন আমরা যেন শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখাকে ইবাদত হিসাবে গুরুত্ব দিই, যদি এক দেশের চাঁদ দেখা অনুসরণ করা হয় তবে সারা পৃথিবীর মানুষ চাঁদ দেখা থেকে চিরদিনের জন্য বঞ্চিত হবে, তখন হাদিস মিথ্যা হয়ে যাবে। একবার সাহাবিগণ চাঁদ দেখা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়েন। তখন ‘হাররা’ নামক স্থান হতে জনৈক বেদুইন এসে বললো সে চাঁদ দেখেছে, তখন তাকে হুজুর (দঃ) এর দরবারে হাজির করা হলো, হুজুর (দঃ) জিজ্ঞাসা করলেন? তুমি কি আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নাই এবং আমি আল্লাহর রাসূল এই কথার স্বাক্ষ্য দাও? সে বললো, হ্যাঁ, আমি আরও স্বাক্ষ্য দেই যে, আমি রমজানের চাঁদ দেখেছি। তখন হুজুর (দঃ) বেলাল (রা.) কে নির্দেশ দিলেন সবাই কে জানিয়ে দাও তারা যেন আগামী দিন রোজা রাখে। শরিয়তে স্বাক্ষ্য আইন রয়েছে। ‘শাহাদা' বা প্রতক্ষ্য দর্শন একটি আঞ্চলিক আইনী শর্ত হিসাবে গণ্য। যে স্বাক্ষী দিবে তাকে স্ব চক্ষ্যে দেখতে হবে এবং স্ব-শরীরে হাজির হয়ে স্বাক্ষী দিতে হবে ‘যেমন, উক্তি বেদুইনের স্বাক্ষ্য'। কোনো মিডিয়া বা মোবাইলের মাধ্যমে স্বাক্ষ্য গ্রহণ করা আইন সম্মত্য নয়। যদি এই ধরণের ভিন্ন দেশের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করতে হয় তবে রাষ্ট্রীয় ইমাম/রাষ্ট্র প্রধান/সরকার তা গ্রহণ করবেন। অন্য কেহ ভিন্ন দেশের মোবাইল বা মিডিয়া এর মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি/দল/কোনো সংগঠন স্বাক্ষ্য গ্রহণ করার এখতিয়ার শরীয়ত দেয় নাই।
হানাফি মাযহাবের দোহাই দিয়ে কুরআন হাদিসের অপব্যাখ্যা করে সাধারণ ইসলাম প্রিয় মানুষ কে ধোকা দিয়ে বাংলাদেশ সরকারের ঘোষণার বিপরীতে ধর্মীয় বিবেধ সৃষ্টি করে এক/দুই দিন আগে রোজা, ঈদ ও কুরবানী ইত্যাদি ধর্মীয় ইবাদত পালন করার কোনো সুযোগ নেই, যেহেতু সারা পৃথিবীতে একসাথে রাত, দিন, সূর্যদয় এবং চাঁদ দেখা হয় না বিষয়টি পরিস্কার।
মাসুম/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর