চট্টগ্রামের শিল্পপতি মুজিবুর রহমানের বাড়ি লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ করেছে একদল সন্ত্রাসী। শিল্পপতির অভিযোগ, কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে না পেয়ে সন্ত্রাসী ‘বড় সাজ্জাদের’ অনুসারীরা হামলা চালিয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে নগরীর চকবাজার থানার চন্দনপুরা এলাকায় তাদের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলিবর্ষণ করা হয়। গত ২ জানুয়ারিও একই বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি করেছিলেন সন্ত্রাসীরা।
মুজিবুর রহমান তৈরি পোশাক শিল্পখাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান স্মার্ট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, মুখোশ পরা চার ব্যক্তি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে বাসার কাছে এসে গুলি চালায়। পুলিশের প্রাথমিক বিশ্লেষণে জানা গেছে—একজনের দুই হাতে দুটি পিস্তল ছিল। একজন সাবমেশিনগান (এসএমজি) ব্যবহার করে। একজন চায়নিজ রাইফেল, আরেকজন শটগান থেকে গুলি ছোড়ে। গুলির সময় বাসায় পাঁচ থেকে ছয়জন পুলিশ সদস্য পাহারায় ছিলেন। তবে তারা প্রস্তুতি নেওয়ার আগেই সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায় বলে জানা গেছে।
এর আগে ২ জানুয়ারি একই সময় একই কায়দায় ওই ব্যবসায়ীর বাড়ির সামনে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করে সন্ত্রাসীরা। ওই হামলায় সাবেক শিবির ক্যাডার সাজ্জাদ আলী খান প্রকাশ বড় সাজ্জাদের অনুসারীদের কথা উঠে আসে পুলিশী তদন্তে। ১০ কোটি টাকা চাঁদার দাবীতে ওই হামলা করা হয়েছিল।
এরপর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে ওই ব্যবসায়ীর বাড়ির সামনে সার্বক্ষণিক পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়। বাড়ির সামনে পুলিশ থাকার কারনে এবার হামলা করা হয়েছে বাড়ির পেছনের ( চাকতাই খাল লাগোয়া ) অংশে। এবারের হামলাও চাঁদার কারণে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। শনিবারের হামলার সময় ওই সময় ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতেই ছিলেন। গুলির ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের ঘুম ভেঙ্গে যায়।
এদিকে চকবাজার থানা পুলিশ জানায়, চাঁদার জন্য ভয় দেখাতেই দুই মাস আগে বাড়ির সামনে ও শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) পেছনে গুলি করা হয়েছে। দুইমাস আগে মাইক্রোবাসে ৮ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী এসে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করেছিল। শনিবার চারজন সন্ত্রাসীর একটি ওই বাড়ির পেছনে একই কায়দায় গুলিবর্ষণ করে পালিয়ে যায়
ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মুজিবুর রহমান জানান, চাঁদার টাকা না পেয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের অনুসারীরা এ হামলা চালিয়েছে। সাজ্জাদ প্রথমে ১০ কোটি টাকা, পরে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা না দেওয়ায় জানুয়ারিতে গুলি করা হয়। প্রায় ২০ দিন আগে হোয়াটসঅ্যাপে ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ বার্তাও পাঠানো হয় বলে জানান তিনি।
মুজিবুর রহমান আরও জানান, সকালে নামাজ শেষে সবাই ঘুমানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। হঠাৎ বাসার পেছনে মুখোশধারী অস্ত্রধারীরা ৬ থেকে ৭ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। প্রথমবার বাড়ির সামনে দিয়ে গুলি করলেও সেখানে পুলিশ প্রহরায় থাকায় এবার বাড়ির পেছন দিক থেকে গুলি করেছে। এভাবে চলতে থাকলে ব্যবসার সুষ্ঠু পরিবেশ যেমন বিঘ্নিত হবে, তেমনি ব্যবসায়ীদেরকেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে। এ ঘটনায় আমাদের পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) হোসাইন কবির ভূঁইয়া জানান, সন্ত্রাসীরা একটি প্রাইভেট কার ও মোটরসাইকেলে করে এসে গাড়ি কিছুটা দূরে রেখে হেঁটে বাসার সামনে গিয়ে গুলি চালায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে পালিয়ে যায়। মুখোশধারী হওয়ায় হামলাকারীদের শনাক্ত করা কঠিন হলেও সাজ্জাদ আলীর সহযোগী মো. রায়হান ও বোরহানের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর