অ্যাকাডেমিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয়ের ক্লাস বর্জন করেছেন বিভাগটির ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। এছাড়া সংশ্লিষ্ট শিক্ষককের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের ওপর আধিপত্য বিস্তার, ফলাফল ‘ভ্যানিশ’ করার হুমকি-ভয়ভীতি, ইন্টার্নাল মার্ক টেম্পারিং ও ব্যক্তিগত বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপসহ বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে গত রোববার বিভাগটির সভাপতি ড. মো. রশিদুজ্জামানের কাছে তিন দফা দাবিসহ স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।
দাবিগুলো হলো- তন্ময় সাহা জয় ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক চতুর্থ বর্ষের দ্বিতীয় সেমিস্টার থেকে স্নাতকোত্তরের ফলাফল প্রকাশ পর্যন্ত কোনো অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারবেন না। অ্যাকাডেমিক স্বার্থে আঘাত আসতে পারে এমন কোনো আশংকা দেখা দিলে বিভাগ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তন্ময়ের সভাপতিত্ব চলাকালে ব্যাচের অ্যাকাডেমিক কোনো জটিলতা যেন সৃষ্টি না হয় সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ভূমিকা পালন করবে।
স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা বলেন, আমরা শিক্ষক তন্ময় সাহা জয়ের ক্লাস করতে অনিচ্ছুক। আমাদের সঙ্গে তার কোনো ব্যক্তিগত সমস্যা কিংবা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নেই। তিনি আমাদের ক্লাস নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন, সেই পরিপ্রেক্ষিতে আমরা তার ক্লাস বর্জন করেছি।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক জয় শিক্ষার্থীদের ওপর আধিপত্য বিস্তার, ফলাফল ‘ভ্যানিশ’ করার হুমকি-ভয়ভীতি, ইন্টার্নাল মার্ক টেম্পারিং ও দ্বিচারিতা, অন্য শিক্ষকদের সমালোচনা, শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত বিষয়ে অযাচিত হস্তক্ষেপ এবং আক্রমণাত্মক ভাষায় কথা বলে আসছেন।
স্মারকলিপি দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীরা জানান, সর্বশেষ নির্বাচনের পর (১৪ ফেব্রুয়ারি) তন্ময় স্যারের একটি ক্লাস ছিল। অনেকের বাসা দূরে হওয়ায় শিক্ষার্থীরা ক্লাস বাতিলের অনুরোধ জানান। তবে তিনি শুনেন নি। যদিও অন্যান্য শিক্ষকরা বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ক্লাস নেন। শিক্ষার্থীরা ক্লাসে উপস্থিত না হলে তিনি আমাদের সকল ক্লাস বর্জনের নোটিশ এবং ক্লাসটির অ্যাটেনডেন্স বাতিলের হুমকি দেন। এর প্রেক্ষিতে আমরা তার ক্লাস বর্জন করে স্মারকলিপি দিই। এছাড়া জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে চেয়ারম্যান স্যারের কাছেও আমরা এসব অভিযোগ আমরা জানাই।
এ বিষয়ে সহকারী অধ্যাপক তন্ময় সাহা জয় সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাদের অভিযোগ ভিত্তিহীন। ক্লাস নেওয়া কি অপরাধ? আমাদের শিক্ষক মাত্র দুজন। একজন শিক্ষক যদি প্রতি ব্যাচে দুটি করে ক্লাস নেয়, তখন অনেক ঘটনাই ঘটে। সবকিছু কি নিয়ন্ত্রণে থাকে? রাগ করে বলা আর কর্মকান্ডের মধ্যে অনেক পার্থক্য থাকে। একটু শাসনের ব্যাপার তো থাকে! তবে বিদ্যমান সমস্যাটি সমাধানযোগ্য। তাছাড়া আমার প্রতি যাদের অনেক অভিযোগ তারাই আমার কোর্সে সবচেয়ে বেশি নাম্বার পেয়েছেন।’
বিভাগটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোঃ রশিদুজ্জামান বলেন, ‘৩ মার্চ অ্যাকাডেমিক মিটিংয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এছাড়া সংশ্লিষ্ট কোর্সটি অন্য শিক্ষককে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য অভিযোগ লিখিতভাবে দিলে সেগুলোর বিষয়েও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
ক্যাম্পাস এর সর্বশেষ খবর