রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে দীর্ঘ ৮ মাস ধরে আত্নগোপনে থাকার পর প্রকাশ্যে এসেছে গৃহবধু রেনু বেগম (৫০)। এ দিকে স্বামী, সন্তান ও প্রতিবেশীকে আসামী করে গুমের মামলা দায়ের করেছে রেনু বেগমের মা কালুখালী উপজেলার তেলি ঝাউগ্রামের ইমান আলী শেখের স্ত্রী মোছাঃ মরিয়ম বেগম।
রবিবার রাত সাড়ে ১১ টার সময় কালুখালী উপজেলার তেলি ঝাউগ্রামের ইমান আলী শেখের স্ত্রী মোছাঃ মরিয়ম বেগমের বাড়ী থেকে উদ্ধার করে থানা পুলিশ। পরে তার মা ও ভাইদের নিকট রেখে আসেন।
জানাগেছে, বালিয়াকান্দি উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের স্বর্পবেতেঙ্গা গ্রামের বাবলু শেখের ছেলে মোঃ লিটন শেখ গত ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট বালিয়াকান্দি থানার সাধারণ ডায়রী নং-১০৪৫ করেন। ডায়রীতে বলেন, গত ১ জুলাই সকাল ১১ টার সময় তার মা রেনু বেগম নিজ বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। তার মা একজন মানসিক রোগী। এর আগেও অনেকবার বাড়ি থেকে কাউকে কিছু না জানিয়ে বের হয়ে চলে যায় আবার একাই ১৫-২০ দিন পরে ফেরত চলে আসে। কিন্তু এবার অনেকদিন হয়ে যাওয়ার পরেও ফেরত আসে নাই। বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করার পরেও তার কোন সন্ধান এখনও পাই নাই।
এদিকে, কালুখালী উপজেলার তেলি ঝাউগ্রামের ইমান আলী শেখের স্ত্রী মোছাঃ মরিয়ম বেগম বাদী হয়ে বালিয়াকান্দি থানায় হত্যা করে লাশ গুমসহ নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করে। থানা পুলিশের সন্দেহ হলে মামলাটি গ্রহণ করে না। এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে।
পরে গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি আমলী আদালতে রেনুর স্বামী বাবলু শেখ, ছেলে লিটন শেখ ও প্রতিবেশী হুসনেয়ারা বেগমকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
বিচারক বালিয়াকান্দি থানার ওসিকে তদন্ত পুর্বক প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। থানার এসআই হিমাদ্রী হালদার তদন্ত ভার গ্রহণ করেই তড়িঘড়ি করে গত ২০২৫ সালের ১৮ ডিসেম্বর লিটন শেখকে বাদ দিয়ে বাবলু শেখ ও হুসনেয়ারাকে অভিযুক্ত করে গুমের বিষয়টি সত্যতা আছে মর্মে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
আত্নগোপনে থাকা রেনু বেগম বলেন, স্বামীর উপর অভিমান করে বাড়ী থেকে চলে যাই। আমাকে কেউ গুম করে নাই। কিভাবে কে মামলা করেছে জানি না। আমি বাবলুর সংসার করবো না।
ভুক্তভোগী বাবলু শেখ বলেন, নিজের মেয়েকে আত্নগোপনে রেখে একটি চক্রের সহযোগিতায় মিথ্যা ও হয়রানীমূলক গুমের মামলা দায়ের করে। আজ দীর্ঘ ৮ মাস মিথ্যা মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে খেয়ে না খেয়ে দিনতিপাত করছি। রবিবার খবর পেয়ে ওই বাড়ীতে গেলে আমাকে মারধর করা হয়। পরে ৯৯৯ এ ফোন করে সহযোগিতা নেই। আমি হয়রানীমুলক মামলা থেকে অব্যাহতি ও এ হয়রানীর সাথে জড়িত সকলের আইনের আওতায় আনার দাবী জানাচ্ছি।
তিনি বলেন, তদন্তকারী কর্মকর্তা সঠিক ভাবে তদন্ত না করেই রিপোর্ট দাখিল করেন। প্রতিবেদনে যাদের স্বাক্ষী দেওয়া হয়েছেন তাদের সাথে আমার পুর্ব বিরোধ রয়েছে। এতেই বোঝা যায় পরিকল্পিত ভাবে আমাকে ফাঁসানোর জন্য মামলাটি দায়ের করেছেন।
মামলার বাদী মোছাঃ মরিয়ম বেগম বলেন, আমি তো ওই গ্রামে যেয়ে মামলার স্বাক্ষীরা যা বলেছে সেই ভাবে মামলা দিয়েছি। তবে মেয়ে জীবিত আছে এবং আত্নগোপনে রেখে মামলা চালালেন কেন প্রশ্ন করলে কোন উত্তর দেননি।
কালুখালী থানার এসআই মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় জরুরী সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। পরে কালুখালী থানার অফিসার ইনচার্জ ও বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জের সাথে কথা বলে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তার মা ও ভায়েরা গুম হওয়া রেনু বেগমকে রাখেন। তারা পারিবারিক ভাবে সবাই বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিবেন বলে সম্মত হন।
বালিয়াকান্দি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুর রব তালুকদার বলেন, গুমের মামলার প্রতিবেদন আদালতে পাঠিয়েছে তদন্ত কর্মকর্তা। এখন পরবর্তী কার্যক্রম আদালতের বিচারক করবেন। আমাদের থানায় নিখোঁজ জিডি করা থাকায় আমরা সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর