অমর একুশে বইমেলার চতুর্থদিন হতে চলছে। শুরুতে প্রাঙ্গণ ছিল খানিকটা নিরিবিলি, স্টলগুলোর সামনে হাতে গোনা কয়েকজন পাঠক। কিন্তু সন্ধ্যা গড়াতেই চিত্র পাল্টে যায়। সূর্য ডোবার সঙ্গে সঙ্গে যেন বইপ্রেমীদের ঢল নামে মেলায়। সন্ধ্যার নরম আলো আর মাইকে ভেসে আসা ঘোষণায় প্রাণ ফিরে পায় পুরো আয়োজন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ২টায় মেলার দুয়ার খোলে এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিগত ৩ দিনে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান ও বাংলা একাডেমি প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে একই চিত্র। সকাল ও দুপুরের দিকে উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে বাড়তে থাকে কিছুটা উপস্থিতি। অফিস ছুটির পর পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব কিংবা সহকর্মীদের সঙ্গে অনেকে চলে আসেন বইয়ের এই মহোৎসবে।
প্রকাশকরা বলছেন, দুপুরে ক্রেতা কম থাকে। অনেকেই কাজের চাপে আসতে পারেন না। তবে সন্ধ্যার পর কিছুটা উপস্থিতি বাড়ে। মেলার শুরুতে বিক্রয়কর্মীরা যখন অলস সময় কাটান তখন সন্ধ্যার পর দম ফেলার ফুরসত থাকে না; একদিকে বই খুঁজে দেওয়া, অন্যদিকে বিল তৈরি করা।
এইদিন বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জন্মশতবর্ষ : তাজউদ্দীন আহমদ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মহিউদ্দিন আহমদ। আলোচনায় অংশ নেন সাজ্জাদ সিদ্দিকী। সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান।
মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস নিয়ে যারা কাজ করেন, তাদের কাছে তাজউদ্দীন আহমদ খুবই প্রাসঙ্গিক একটি নাম। তিনি ছিলেন বাংলাশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। ১৯৪০ এর দশকে ঢাকায় মুসলিম লীগের কর্মী ছিলেন। ভাষা আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। ১৯৫৩ সালে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে একপর্যায়ে দলের সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় সরকার গঠন করে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধের পর কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন। ইতিহাস আমাদের এমন কিছু সময় ও ঘটনার মুখোমুখি করে, যেটাকে আমরা বলি ক্রান্তিকাল। তাজউদ্দীন আহমদ এমনই একটি সময়ের মুখোমুখি হয়েছিলেন ১৯৭১ সালে। ওই সময়টি তাঁর এবং সমগ্র জাতির জীবনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তাজউদ্দীন আহমদ রাজনীতিতে যতদিন সক্রিয় ছিলেন, ততদিন মানুষের জন্য কাজ করে গেছেন।
সাজ্জাদ সিদ্দিকী বলেন, তাজউদ্দীন আহমদ বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের একজন। ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে চালকের অবস্থানে বসে যুদ্ধের সমন্বয় ও পরিচালনা, সেইসঙ্গে স্বাধীনতাত্তোর দেশ পুনর্গঠনের চেষ্টা তাজউদ্দীন আহমদকে ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত করেছে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের পূর্বে ও পরে তার অবদান অনস্বীকার্য।
অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেন, তাজউদ্দীন আহমদ যেভাবে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক নেতৃত্ব পর্যায়ে উঠে এসেছিলেন তা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর পরিশীলিত মনোভাব, শিক্ষিত মনন ও ভবিষ্যৎ দূরদৃষ্টি—ই তাকে নেতা করে তুলেছিল।
এদিকে লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের বই নিয়ে আলোচনা করেন আলী আহমদ। বিকেল ৪টায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কবিতা পাঠ করেন কবি সাখাওয়াত টিপু। আবৃত্তি পরিবেশন করেন এ. কে. এম দিদার উদ্দিন এবং অনন্যা লাবণী। এছাড়াও ছিল জারিন তাসনিম ঐশ্বর্যের পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘ঐকান্তিক শিল্পীগোষ্ঠী’ এবং দীপ্তি রাজবংশীর পরিচালনায় সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ লোকসঙ্গীত পরিষদ’ এর পরিবেশনা।
আগামীকালের সময়সূচি ও আলোচনা অনুষ্ঠান: আগামীকাল বুধবার (৪ মার্চ) মেলা শুরু হবে দুপুর ২টায় এবং চলবে হবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৩টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ : সন্জীদা খাতুন শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মফিদুল হক। আলোচনায় অংশ নেবেন মোহাম্মদ আজম। সভাপতিত্ব করবেন ভীষ্মদেব চৌধুরী। বিকেল ৪টায় রয়েছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর