আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি আমল হলো ইতিকাফ। ইতিকাফ তিন প্রকার। এর মধ্যে রমজানের শেষ দশদিন ইতেকাফ করা সুন্নতে মুআক্কাদা কেফায়া। কোনো মহল্লা বা এলাকা থেকে একজন ইতেকাফ করলে পুরো মহল্লাবাসীর পক্ষ থেকে এটি আদায় হয়ে যাবে। আর কেউ ইতেকাফ না করলে সবাই গোনাহগার হবে।
ইতেকাফ করার সময় কিছু বিধিনিষেধ মেনে চলতে হয়। কিছু কাজ আছে যেগুলো ইতেকাফ অবস্থায় নিষিদ্ধ এবং ইতেকাফকারী ওই কাজগুলো করলে ইতেকাফ ভেঙে যাবে।
চলুন জেনে নিই, ইতিকাফে কী কী কাজ নিষিদ্ধ
১. ইতেকাফ অবস্থায় স্ত্রী-সহবাস সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ। রমজানে দিনের বেলা রোজা অবস্থায় স্ত্রী-সহবাস নিষিদ্ধ হলেও রাতে সহবাসের অনুমতি রয়েছে। কিন্তু ইতেকাফ অবস্থায় রাতেও সহবাসের নিষিদ্ধ। ইতেকাফরত ব্যক্তি স্ত্রী সহবাস করলে ইতেকাফ ভেঙে যাবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, তোমরা মাসজিদে ইতিকাফরত অবস্থায় স্ত্রীদের সাথে মিলিত হয়ো না। এটা আল্লাহর সীমারেখা, সুতরাং তোমরা তার নিকটবর্তী হয়ো না। (সুরা বাকারা: ১৮৭)
২. ইতেকাফকালে রোজা রাখা জরুরি। কেউ যদি কোনো প্রয়োজনে রোজা ভেঙে ফেলে বা কোনোভাবে রোজা ভেঙে যায়, তাহলে তার ইতেকাফও ভেঙে যাবে। যেমন কেউ যদি অসুস্থতার কারণে রোজা ভেঙে ফেলে, তাহলে তার ইতেকাফও ভেঙে যাবে। একইভাবে ইচ্ছাকৃত পানাহার, সহবাস বা জাগ্রত অবস্থায় ইচ্ছাকৃত বীর্যস্খলন ঘটানোর কারণে কারো রোজা ভেঙে গেলে তার ইতেকাফও ভেঙে যাবে। ( মুসান্নাফ আবদুর রাযযাক : ৪/৩৫৪, হিদায়া : ১/২২৯, ফাতাওয়া সিরাজিয়া : পৃ. ৩১, ফাতাওয়া তাতারখানিয়া : ২/৪১০-৪১৩, আলবাহরুল রায়েক : ২/২৯৯, আদ্দুররুল মুখতার : ২/৪৪২)
৩. একান্ত প্রয়োজন ছাড়া মসজিদ থেকে বের হলে ইতেকাফ ভেঙে যাবে। ইতেকাফরত অবস্থায় অজু, ফরজ-গোসল ও প্রাকৃতিক প্রয়োজনে মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে। কিন্তু রোগী দেখতে যাওয়া, জানাজার নামাজের মতো ফজিলতপূর্ণ কাজের জন্য বা অপ্রয়োজনীয় গোসল, বেচাকেনা, মোবাইলে কথা বলা ইত্যাদি কাজের জন্যও মসজিদ থেকে বের হওয়া যাবে না। (আবু দাউদ : ২৪৭৩)
প্রসঙ্গত, ইতেকাফ অবস্থায় নারীদের পিরিয়ড বা মাসিক শুরু হলে তাদের ইতেকাফ ভেঙে যাবে। পরে শুধু এক দিনের ইতিকাফ রোজাসহ কাজা করতে হবে। এই এক দিন কাজা করার নিয়ম হলো, রমজান মাসের পর কোনো একদিন সূর্যাস্তের আগে ইতিকাফ শুরু করতে হবে এবং পরের দিন রোজা থাকতে হবে। সেদিন সূর্যাস্তের পর ইতিকাফ শেষ হবে।
এভাবে একদিন রোজাসহ ইতিকাফ করলেই কাজা আদায় হয়ে যাবে। পুরো দশ দিনের ইতিকাফ কাজা করতে হবে না। তবে কারও রমজানের শেষ দশকে ঋতুস্রাব হওয়ার নিয়ম থাকলে তিনি ঋতুস্রাব শুরু হওয়া পর্যন্ত নফল ইতিকাফ করতে পারবেন। (ফাতাওয়া হিন্দিয়া : ১/২০৭, বাদায়েউস সানায়ে : ২/২৭৪, আহসানুল ফাতাওয়া : ৪/৫০২)
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর