গাজীপুরের কালীগঞ্জে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। উপজেলার কোনো পাম্পেই বর্তমানে ডিজেল কিংবা অকটেন মিলছে না। সরবরাহ নেই এমন অজুহাতে পাম্পগুলোতে ঝুলছে লাল নিশানা। হঠাৎ তৈরি হওয়া এই অচলাবস্থায় সাধারণ পরিবহন চালক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অতি মুনাফার লোভে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনদুর্ভোগ বাড়ানো হচ্ছে।
সরেজমিনে কালীগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, জ্বালানি তেলের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হয়েছে। পাম্প মালিকদের দাবি, ডিপো থেকে তেলের সরবরাহ না থাকায় তারা কার্যক্রম বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছেন। অধিকাংশ পাম্পের সামনেই তেল নেই সংবলিত সাইনবোর্ড বা লাল নিশানা ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা যানবাহনগুলো তেলের জন্য এক পাম্প থেকে অন্য পাম্পে গিয়ে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছে। জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে গণপরিবহন ও পণ্যবাহী ট্রাকের ওপর। রাস্তায় যানবাহনের সংখ্যা কমে যাওয়ায় অফিসগামী যাত্রী ও সাধারণ মানুষকে দীর্ঘক্ষণ বাসের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও বাইক চালকরা পড়েছেন মহাবিপদে। অনেক জরুরি সেবার যানবাহনও সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না। চালকদের অভিযোগ, তেলের অভাবে গাড়ি বের করা সম্ভব হচ্ছে না, যার ফলে তাদের দৈনিক আয় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
পাম্প মালিকরা সরবরাহের অভাবকে দায়ী করলেও স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও চালকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, তেলের দাম বৃদ্ধির আশায় কিংবা অতি মুনাফার লোভে পাম্প মালিকরা মজুদ থাকা তেল বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছেন। এটি একটি সৃষ্ট সংকট বলে দাবি করছেন অনেকে। তেলের পাম্পগুলোর এই রহস্যময় আচরণে জনমনে অসন্তোষ দানা বাঁধছে। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং জনদুর্ভোগ কমাতে স্থানীয় প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এলাকাবাসী।
তাদের দাবি, কোনো অসাধু চক্র তেলের বাজার অস্থির করার চেষ্টা করছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হোক। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে কৃষি সেচ ও পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের ধস নামার আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ এখন সময়ের দাবি। দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করে জনজীবনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনার অনুরোধ জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কালীগঞ্জবাসী।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর