ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ায় ফেসবুক পোস্ট দিয়ে অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের নামে ১০০ টাকা করে আদায়ের সত্যতা পেয়েছে তদন্ত কমিটি। উপজেলার আছিম পাটুলি ইউনিয়ন পরিষদে এই ঘটনা ঘটে। চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েসের বিরুদ্ধে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের নামে ১০০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগ উঠেছিল।
শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে তিন সদস্যবিশিষ্ট গঠিত তদন্ত কমিটি প্রধান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিডি২৪লাইভে "ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের নামে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ" শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পরপরই নড়েচড়ে বসে স্থানীয় প্রশাসন।
পরে সমালোচনার মুখে উপজেলা প্রশাসন গত ২৮ ফেব্রুয়ারি উপজেলা প্রশাসন ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে প্রধান করে ৩ সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে। ওই কমিটিকে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ঘোষিত সারাদেশে নারীদের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। প্রাথমিকভাবে জেলার নান্দাইল উপজেলাসহ ১৪ উপজেলার একটি করে ইউনিয়নে পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড নিয়ে কাজ শুরু করা হয়েছে। পাইলট প্রকল্পের আওতায় ফুলবাড়িয়া উপজেলার নাম না থাকার পরেও উপজেলার আছিম পাটুলি ইউনিয়নে প্রচারণার মাধ্যমে আবেদন শুরু করা হয়েছে, যা নিয়ে জনমনে নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট দেন। ওই ফেসবুক পোস্টে যা উল্লেখ করা হয়, অনলাইনে ফ্যামিলি কার্ডের আবেদন করতে কোনো নমিনির প্রয়োজন নেই। এনআইডি কার্ড, এক কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, মোবাইল নাম্বার এবং স্ব-হস্তে স্বাক্ষর থাকলেই আবেদন করা যাবে। বিঃদ্রঃ- শুধুমাত্র নারীরা আবেদন করতে পারবে। আমরা অফিসিয়াল কোনো নির্দেশনা পাইনি কিন্তু অনলাইনে আবেদন হচ্ছে। এরপর বৃহস্পতিবার ইউপি কার্যালয়ে নারীরা আবেদন করতে আসেন।
চেয়ারম্যানের ফেসবুকে এমন ঘোষণার পর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ফ্যামিলি কার্ডের আবেদনের নামে ১০০ টাকা আদায় করেন। ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ছিল উপজেলার আছিম পাটুলি ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ের। এ নিয়ে উপজেলাজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
পরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ফুলবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. আরিফুল ইসলাম উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হককে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন। তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক বলেন, আমরা সরেজমিন তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়েছি। আগামী রবিবার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আরিফুল ইসলাম বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিও দেখে প্রমাণিত হয় সে অনিয়ম করেছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর