রাজবাড়ীর পাংশা বাজারে অবস্থিত বিসমিল্লাহ টাওয়ারে দোকানের পজেশন (দখল) বুঝিয়ে না দেওয়ার অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ১৭ জন পজিশনধারী। তবে মার্কেট মালিক পক্ষ এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন।
রবিবার বিকেলে পাংশা বাজারে বিসমিল্লাহ টাওয়ার মার্কেটের সামনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মো. আমিরুল ইসলাম (ইকু), নিখিল সরকার, মো. মাখনলাল, বাবুল চৌধুরী, মো. আবু হানিফ সরদার, এ কে এম আব্দুল আলী, বিমল দে, সুশান্ত কুমার নাগ, মো. মতিয়ার রহমান, ববিতা সরকার স্বপ্না, মো. ইসলাম শেখ, অশিষ কুমার ভদ্র, মিরাজুল ইসলাম, বিজয় ভদ্রসহ মোট ১৭ জন পজেশনধারী অভিযোগ করে বলেন, প্রয়োজনীয় দলিলপত্র ও ডিড ডকুমেন্টসহ সব কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও মার্কেট নির্মাণের শুরু থেকেই তাদের দোকানের পজেশন বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় দুই বছর পার হয়ে গেলেও এখনো তা বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মার্কেটের অধিকাংশ দোকানের পজেশন ইতোমধ্যে বিক্রি ও বুঝিয়ে দেওয়া হলেও তাদের দোকান ঘরের পজেশন এখনো দেওয়া হয়নি।
সাবেক কাউন্সিল সিরাজুল ইসলাম বলেন বিগত আওয়ামী লীগের সময় জোর করে আমাদের কাছ থেকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে স্ট্যাম করে নিয়েছিল, আমরা সঠিক ভাবে আমাদের পজিশন বুঝে পেতে বনিক সমিতিসহ বিভিন্ন মহলের দারস্ত হয়েছি, অদৃশ্য কারনে আমাদের পজিশন বুঝে দেওয়া হচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন বিষয়টি রাজবাড়ী -২ আসনের মাননীয় সংসদ হারুন অর রশীদ মহোদয়ের নিকট আবেদন করছি আপনি ন্যায় ও সঠিক প্রাপ্ততার ভিত্তিতে আমাদের পজিশন বুঝে পেতে সহায়তা করুন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কেট মালিক পক্ষ বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে বিষয়টি এড়িয়ে যান। এমনকি কখনো কখনো হুমকি-ধামকি ও অপমানজনক আচরণের শিকার হওয়ার অভিযোগও করেন তারা।
এ সময় তারা দ্রুত তাদের ক্রয়কৃত দোকানের পজেশন বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে এ বিষয়ে পাংশা বাজার বণিক সমিতির কাছেও মৌখিক ও লিখিত অভিযোগ করেছেন বলেও জানান তারা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মার্কেট মালিক পক্ষের মো. নিজাম ও আমিরুল ইসলাম বলেন, তাদের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
তিনি দাবি করেন, অভিযোগকারীদের কাছে তারা কোনো দোকানের পজেশন বিক্রি করেননি। তবে তাদের সঙ্গে একটি চুক্তি হয়েছিল, যেখানে দোকানের নির্মাণ খরচ তারা পরিশোধ করবেন বলে কথা ছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই নির্মাণ খরচ তারা পরিশোধ করেননি বলেও জানান তারা।
এ বিষয়টি নিয়ে মার্কেট এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশংকা করছে ওই মার্কেটের ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা। বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের নজরদারি ও হস্তক্ষেপ কামনা করছে স্থানীয় ব্যাবসায়ীরা।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর