মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতে ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা ও অঞ্চলে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে বড় ধরনের পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের সংবাদ মাধ্যম তাসনিম নিউজ এজেন্সি।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তারা “অপারেশন ট্রু প্রমিজ–৪” এর ৪৪তম ধাপ পরিচালনা করেছে। এই অভিযানে ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা এবং পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
আইআরজিসি জানিয়েছে, রমজানের ২৩তম রাতে পরিচালিত এই অভিযানে উত্তর ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা, হাইফা ও হাদেরাসহ বিভিন্ন স্থানে হামলা চালানো হয়েছে। এছাড়া অঞ্চলের কয়েকটি মার্কিন সামরিক স্থাপনাও লক্ষ্য করে আঘাত হানা হয়েছে।
এই হামলায় খোররামশাহর, খেইবার শেখান, ফাত্তাহ, ইমাদ ও কাদর মডেলের উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে বলে দাবি করেছে আইআরজিসি। পাশাপাশি নির্ভুল লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে ড্রোন হামলাও চালানো হয়।
আইআরজিসি বলেছে, এই অভিযানটি পরিচালিত হয়েছে ইরানের জেনারেল Qasem Soleimani, হিজবুল্লাহ নেতা Hassan Nasrallah এবং ফিলিস্তিনি নেতা Ismail Haniyeh ও Yahya Sinwar–এর স্মরণে।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, অভিযানের সময় একটি মার্কিন সামরিক জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান Boeing KC-130 Stratotanker ভূপাতিত করা হয়েছে, এতে থাকা ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হন।
আইআরজিসির জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল Ali Fadavi বলেন, “অপারেশন ট্রু প্রমিজ–৪ শুরুর পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বড় ধরনের সামরিক ধাক্কার মুখে পড়েছে।”
অন্যদিকে ইরানের খাতাম আল–আম্বিয়া সদর দপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল Ali Abdollahi বলেছেন, শত্রুপক্ষকে তাদের কর্মকাণ্ডের মূল্য দিতে বাধ্য করা হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি United States ও Israel ইরানের ওপর হামলা চালানোর পর থেকেই পাল্টা প্রতিশোধমূলক হামলা চালাচ্ছে Iran। তেহরান বলছে, তারা কেবল যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি ও ইসরায়েলি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা করছে এবং আরব দেশগুলোর সঙ্গে সংঘাতে জড়াতে চায় না।
এই হামলা এমন এক সময়ে চালানো হলো যখন ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশের প্রতীকী দিবস Al-Quds Day সামনে আসছে।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর