মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ Strait of Hormuz দিয়ে সীমিত সংখ্যক তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে ইরান। তবে এর জন্য একটি শর্ত দিয়েছে তেহরান—তেলের লেনদেন করতে হবে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে।
একজন ইরানি কর্মকর্তার বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, অঞ্চলজুড়ে বাড়তে থাকা উত্তেজনার মধ্যে প্রণালী দিয়ে ট্যাংকার চলাচল নিয়ন্ত্রণে নতুন একটি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে Iran।
বিশ্ববাজারে তেলের বেশিরভাগ লেনদেন এখনো মার্কিন ডলারে হলেও, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছু তেল রুবল বা ইউয়ানে বেচাকেনা হচ্ছে। বহু বছর ধরে China আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যে ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করে আসছে এবং সৌদি আরবসহ বড় তেল রপ্তানিকারকদের এ মুদ্রায় লেনদেনে রাজি করানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে মার্কিন ডলারই প্রভাবশালী রয়ে গেছে এবং ইউয়ান এখনো ব্যাপকভাবে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় বৈশ্বিক তেলের দাম বেড়ে ২০২২ সালের জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই জলপথটি বিশ্বে তেল ও গ্যাস পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট।
উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট Donald Trump ঘোষণা দেন যে মার্কিন বাহিনী ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র Kharg Island-এ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। তিনি দাবি করেন, ওই অভিযানে সামরিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস করা হলেও তেল অবকাঠামো ইচ্ছাকৃতভাবে অক্ষত রাখা হয়েছে।
তবে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, ইরান যদি হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করতে পারে।
এদিকে United Nations সতর্ক করেছে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল সীমিত হলে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি জেনারেল Tom Fletcher বলেন, এই পথে জাহাজ চলাচল বন্ধ হলে খাদ্য, ওষুধ, সারসহ প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন কঠিন ও ব্যয়বহুল হয়ে পড়বে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, সিএনএন।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর