যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ইরানের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। সংস্থাটির কমান্ডার ব্রাড কুপার বুধবার এক ভিডিও বার্তায় এ তথ্য জানান বলে জানিয়েছে আলজাজিরা।
মার্কিন দাবিতে বলা হয়, ইরানের নৌবাহিনীর সবচেয়ে বড় জাহাজগুলোর প্রায় ৯২ শতাংশ ধ্বংস হয়েছে। পাশাপাশি দেশটির ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের হার ৯০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। এছাড়া ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও নৌযান তৈরির কারখানা এবং শিপইয়ার্ডগুলোর দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে।
ব্রাড কুপারের মতে, তিন সপ্তাহের বেশি সময় ধরে চলা এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ১০ হাজারেরও বেশি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। এ সময় ইরানের আকাশসীমায় ১০ হাজারের বেশি মার্কিন সামরিক উড়োজাহাজ উড্ডয়ন করেছে, যার ফলে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।
তবে বাস্তব পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে। ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা মার্কিন স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে ইরান এখনও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি স্থাপনাগুলোতেও তাদের হামলা অব্যাহত রয়েছে।
তবুও ব্রাড কুপারের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র নির্ধারিত সামরিক লক্ষ্য অর্জনের পথে রয়েছে, বরং কিছু ক্ষেত্রে পরিকল্পনার চেয়েও এগিয়ে আছে। এসব লক্ষ্যের মধ্যে অন্যতম হলো— ইরানের সীমান্তের বাইরে শক্তি প্রদর্শনের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন নিশানা করে উপকূলীয় অঞ্চল থেকে ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। দেশটির সেনাবাহিনী বুধবার (২৫ মার্চ) এমন দাবি করেছে।
ইরানের প্রেস টিভি এক ভিডিও প্রকাশ করে দাবি করেছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী যুক্তরাষ্ট্রের একটি রণতরীকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
এর আগে ইরান নৌবাহিনীর কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল শাহরাম ইরানি জানান, শত্রুপক্ষের বিমানবাহী রণতরী ‘আব্রাহাম লিংকন’-এর গতিবিধি সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হচ্ছে। এটি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় এলেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর