ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্র-এর দেওয়া যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে, তবে এ বিষয়ে সরাসরি কোনো আলোচনা বা সংলাপে বসার পরিকল্পনা নেই। অন্যদিকে, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, তেহরানের নেতারা “খুবই আগ্রহের সঙ্গে” একটি চুক্তি করতে চান।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো সংলাপ হয়নি। তবে মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর মাধ্যমে বার্তা আদান-প্রদান চলছে। “বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর মাধ্যমে বার্তা দেওয়া-নেওয়াকে আলোচনা বলা যায় না,” তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে ওয়াশিংটনে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, “ইরানের নেতারা চুক্তি করতে চায়, কিন্তু তা প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছে।” তবে যুক্তরাষ্ট্র কার সঙ্গে আলোচনা করছে—এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত জানাননি।
যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের একটি ১৫ দফা প্রস্তাব পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। এতে ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুদ অপসারণ, পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়ন বন্ধ করার শর্ত রয়েছে।
তবে ইসরায়েল এই প্রস্তাব নিয়ে সন্দিহান। ইসরায়েল মনে করছে, ইরান এসব শর্তে রাজি হবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় ছাড় দিতে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
এদিকে ইরান জানিয়েছে, যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে লেবানন-কে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে।
সংঘাতের প্রভাব বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ছে। জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন, বিশ্ব এখন একটি বৃহত্তর যুদ্ধের ঝুঁকির মুখে রয়েছে।
অর্থনৈতিক প্রভাবও বাড়ছে। হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও বাড়তে শুরু করেছে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলে বিঘ্ন ঘটছে।
মার্কিন সামরিক সূত্র জানিয়েছে, ইরানে এখন পর্যন্ত ১০ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছে এবং দেশটির নৌ, ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির আশাবাদ কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
সূত্র: Reuters.
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর