আজ বাদে কাল পহেলা বৈশাখ, ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনীয়া ইউনিয়নের চান্দরাটি এলাকার ঐতিহ্যবাহি পালপাড়ায় শেষ মুহুর্তে বেড়েছে কর্মচাঞ্চল্য। বৈশাখী মেলার জন্য মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, মাটির পুতুল, ব্যাংক, দইয়ের পাত্র, পিঠার খোলা, মাছ ধোয়ার পাত্র, বাটি ও বিভিন্ন ধরনের খেলনা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে তাই ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় মৃৎশিল্পীরা।
কেউ মাটি প্রস্তুত করছেন, কেউ তৈরি করছেন নকশা, আবার কেউ রোদে শুকানো ও আগুনে পুড়িয়ে চূড়ান্ত পণ্য প্রস্তুত করছেন। সরেজমিনে দেখা গেছে, পালপাড়ার প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার এ পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আধুনিক পণ্যের ভিড়ে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্প
প্লাস্টিক, মেলামাইন ও স্টিলের তৈরি সামগ্রীর সহজলভ্যতা এবং কম দামের কারণে মাটির পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। ফলে সারা বছর আয় না থাকায় বৈশাখী মেলাকেই ভরসা করে থাকতে হয় এই কারিগরদের। স্থানীয় মৃৎশিল্পী লক্ষী রানি পাল জানান, ছোটবেলা থেকেই পারিবারিকভাবে এ কাজের সঙ্গে যুক্ত তিনি। তবে বর্তমানে কাঁচামালের দাম বেড়ে যাওয়ায় মাটির কাজ করে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
আগে যেখানে সহজেই মাটি সংগ্রহ করা যেত, এখন তা কিনে আনতে হচ্ছে। পাশাপাশি লাকড়ির দামও বেড়েছে, ফলে উৎপাদন খরচ বাড়লেও সেই অনুপাতে আয় বাড়ছে না। দীর্ঘদিন ধরে এ পেশায় থাকা রমেশ চন্দ্র পাল বলেন, প্রায় দুই দশকের বেশি সময় ধরে তিনি মাটির কাজ করছেন। আগে চাকে কাজ করলেও এখন অনেক জায়গায় মেশিনের ব্যবহার দেখে কিছুটা পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছেন। তবে নতুন প্রজন্ম এ পেশায় আগ্রহ দেখাচ্ছে না বলে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
একইভাবে মনোহর পাল বলেন, এটি তাদের বাপ-দাদার পেশা হলেও বর্তমান বাস্তবতায় এ কাজ করে সংসার চালানো সম্ভব হচ্ছে না। খরচ বেড়েছে, চাহিদা কমেছে সব মিলিয়ে এই পেশায় ভবিষ্যৎ দেখছেন না তারা। ফলে নতুন প্রজন্ম অন্য পেশার দিকে ঝুঁকছে। এ পেশা ছেড়ে অন্য কাজে যুক্ত হওয়া সুমন পাল জানান, বেশি পরিশ্রমের তুলনায় আয় কম হওয়ায় তিনি মৃৎশিল্প ছেড়ে স্বর্ণের দোকানে চাকরি নিয়েছেন।
পরিবারের খরচ মেটাতে বাধ্য হয়েই এ সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে বলে জানান তিনি। মৃৎশিল্পীরা বলছেন, সরকারি সহায়তা, সহজ শর্তে ঋণ, প্রশিক্ষণ ও আধুনিক বিপণন ব্যবস্থা থাকলে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব। অন্যথায় প্রায় দুইশ বছরের পুরোনো এই পেশা একসময় হারিয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এ বিষয়ে ভালুকা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুবেল মন্ডল বলেন, পাল সম্প্রদায়সহ বিভিন্ন পেশাজীবী গোষ্ঠীর উন্নয়নে পূর্বে কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে ভালুকায় এ ধরনের কোনো কার্যক্রম চালু নেই। ভবিষ্যতে সরকারি নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর