নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিন ফারুক মন্তব্য করেছেন যে, দখলকৃত খালগুলো উদ্ধার করে পরিকল্পিতভাবে পুনঃখননের মাধ্যমে পানি প্রবাহের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে বর্তমান সরকার। তিনি আরও বলেন, বিগত ১৭ বছরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা নোয়াখালীর বহু খাল দখল ও ভরাট করেছে। কোথাও আবার দীর্ঘদিন খনন না হওয়ায় নাব্যতা হারিয়েছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে পানি জমে থাকে এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি সংকট দেখা দেয়, যা কৃষকের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ। তিনি বলেন, খালগুলোকে সচল রাখতে হলে নিয়মিত খনন, অবৈধ দখল উচ্ছেদ এবং স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে একটি টেকসই ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।
কৃষকদের বিষয়ে ফারুক এমপি বলেন, সেনবাগ, সোনাইমুড়ী (আংশিক) উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জলাবদ্ধতার কারণে প্রতি বছর শত শত একর জমির ফসল নষ্ট হয়। অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে বিকল্প পেশায় ঝুঁকছেন। খালগুলো ভরাট হওয়ায় বর্ষায় পানি নামতে পারে না, আবার শুকনো মৌসুমে সেচের পানি পায় না। কৃষকদের বাঁচাতে হলে প্রথমেই পানি ব্যবস্থাপনা ঠিক করতে হবে। খালগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা ছাড়া এর কোনো বিকল্প নেই। খাল খনন হলে শুধু কৃষি নয়, মৎস্য উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি চাঙ্গা হবে। তিনি আরও বলেন, খাল দখলদারদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি যদি খাল দখল করে রাখে, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শুক্রবার দুপুরে সেনবাগ উপজেলার কাবিলপুর ইউনিয়নের ছমিরমুন্সী হতে কল্যান্দি বাজার পর্যন্ত খাল পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক শফিকুল ইসলাম, সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহসিয়া তাবাসসুম, পৌর প্রশাসক নুর এ পেয়ারা বেগম, জেলা বিএনপি নেতা আবদুল্লাহ আল মামুন, সেনবাগ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মুক্তার হোসেন পাটোয়ারী, সেনবাগ থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত) হযরত আলী, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. এনামুল হক, পৌর বিএনপির সদস্য সচিব মো. শহীদ উল্যাহসহ বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর