• ঢাকা
  • ঢাকা, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১১ সেকেন্ড পূর্বে
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ২৪ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:০৮ রাত

এপস্টেইন চক্রের আরও ভয়ংকর তথ্য ফাঁস

ছবি: সংগৃহীত

লন্ডনে কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন–এর মানবপাচার ও যৌন নিপীড়ন চক্রের ভয়াবহ তথ্য প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে পরিচিত বিপুল পরিমাণ ইমেইল, ব্যাংক নথি ও রসিদ বিশ্লেষণ করে তৈরি এই অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে জানানো হয়, লন্ডনের অভিজাত এলাকা কেনসিংটন ও চেলসি–তে এপস্টেইন চারটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন, যেখানে যৌন নিপীড়নের শিকার নারী ও তরুণীদের রাখা হতো।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অন্তত ছয়জন নারী এসব ফ্ল্যাটে অবস্থান করেছেন এবং পরবর্তীতে এপস্টেইনের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ তুলেছেন। তাদের অনেকেই রাশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের নাগরিক। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৫ সালে ভার্জিনিয়া জুফ্রে লন্ডনে মানবপাচারের অভিযোগ তুললেও ব্রিটিশ পুলিশ কোনো তদন্ত শুরু করেনি। এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে এপস্টেইন দীর্ঘদিন তার অপরাধচক্র চালিয়ে যেতে সক্ষম হন।

ফাইলগুলোতে আরও দেখা যায়, ২০১৯ সালে গ্রেফতারের কয়েক মাস আগ পর্যন্ত তিনি লন্ডনের ওই ফ্ল্যাটগুলোর নারীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন। নিজেকে তিনি তাদের ‘বাড়িওয়ালা’ হিসেবে পরিচয় দিতেন—যিনি ভাড়া নেওয়ার বদলে উল্টো অর্থ প্রদান করতেন। নথি অনুযায়ী, তিনি তাদের পড়াশোনা, আসবাবপত্র কেনা এমনকি ইংরেজি শেখার কোর্সের খরচও বহন করতেন। এর বিনিময়ে অনেককে তার পাচার চক্রে নতুন নারী সংগ্রহে বাধ্য করা হতো।

শুধু ফ্ল্যাট ভাড়া নেওয়াই নয়, অত্যন্ত সংগঠিতভাবে আন্তর্জাতিক মানবপাচার কার্যক্রম পরিচালনা করতেন এপস্টেইন। ২০১১ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে তিনি ইউরোস্টার ট্রেন ব্যবহার করে অন্তত ৫৩ বার নারীকে ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে আনা-নেওয়া করেন। এর মধ্যে ৩৩টি যাত্রা হয়েছিল ২০১৫ সালে অভিযোগ দায়েরের পর। এমনকি গ্রেফতারের মাত্র ১৬ দিন আগেও তিনি একজন নারীকে লন্ডনে নিয়ে আসেন। এছাড়া, শতাধিক ব্যক্তিগত ও বাণিজ্যিক ফ্লাইট ব্যবহারের তথ্যও এসব নথিতে উঠে এসেছে।

মানবাধিকার আইনজীবী টেসা গ্রেগরি এবং সাবেক ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা কেভিন হাইল্যান্ড পুলিশের এই ভূমিকায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, মানব পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো তদন্ত শুরু না করা একটি বড় ব্যর্থতা। 

বিবিসির অনুসন্ধানে আরও দেখা গেছে, ২০২০ সালে দ্বিতীয় আরেক নারী এপস্টেইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিলেও পুলিশ তা আমলে নেয়নি। মেট্রোপলিটন পুলিশ অবশ্য দাবি করেছে, তারা আন্তর্জাতিক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করেছে।

এই কেলেঙ্কারিতে ব্রিটিশ রাজপরিবারের সদস্য অ্যান্ড্রু মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর এবং অভিজাত ব্রিটিশ নাগরিক ক্লেয়ার হ্যাজেল-এর নামও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। যদিও অ্যান্ড্রু শুরু থেকেই কোনো অন্যায়ে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে আসছেন। 

এপস্টেইনের মৃত্যু হলেও তার সহযোগীদের অনেকেই এখনও লন্ডনে বসবাস করছেন বলে বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী নারী এবং মানবাধিকার কর্মীরা এখন এই পুরো ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি খতিয়ে দেখতে একটি প্রকাশ্য গণতদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।

সূত্র: বিবিসি।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ info@bd24live.com
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ office.bd24live@gmail.com