মধ্যপ্রাচ্যের সংকট সমাধানের আশা বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের দামে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ডলার ও তেলের দাম কমে যাওয়ার ফলে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা কমেছে। তাতেই বেড়েছে মূল্যবান ধাতুটির দাম।
রয়টার্স জানিয়েছে, বাংলাদেশ সময় দুপুর তিনটা পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.৭ শতাংশ বেড়ে যায়। এতে প্রতি আউন্স ৪,৪৬৪.৭৯ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে আগস্ট ডেলিভারির মার্কিন স্বর্ণ ফিউচারের দাম ০.৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪,৪৯১.৮০ ডলারে পৌঁছায়।
ডলারের মূল্য কমে যাওয়ায় অন্যান্য মুদ্রার ধারকদের জন্য ডলারভিত্তিক স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সস্তা হয়ে ওঠে, যা বাজারে চাহিদা বাড়াতে সহায়তা করেছে।
বুধবার মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, ইসরাইল ও লেবানন যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সম্মত হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরান সংশ্লিষ্ট বৃহত্তর সংঘাতেরও কূটনৈতিক সমাধানের আশা তৈরি হয়েছে।
বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ট্রেডু ডটকমের জ্যেষ্ঠ বাজার বিশ্লেষক নিকোস জাবুরাস বলেন, সফল কূটনৈতিক সমাধান হলে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক হবে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ কমবে। একই সঙ্গে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও তেলের দাম কমে যাওয়ায় ডলারের ওপর চাপ সৃষ্টি হতে পারে, যা স্বর্ণের পুনরুদ্ধারকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মেটালস ফোকাস জানিয়েছে, ২০২৬ সালের দ্বিতীয়ার্ধে স্বর্ণ আবার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরতে পারে। তবে গহনা খাত ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্রয়ে বড় ধরনের পতনের কারণে ২০২৬ সালে মোট স্বর্ণের চাহিদা ২ শতাংশ কমতে পারে।
স্বর্ণের দাম বাড়ার পাশাপাশি মূল্যবান ধাতুর প্রায় সবগুলো বেড়েছে। এর মধ্যে স্পট সিলভারের দাম ০.৮ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৭৩.৩১ ডলার, প্লাটিনাম ১.৩ শতাংশ বেড়ে ১৮৮৩.১৫ ডলার এবং প্যালাডিয়াম ০.৫ শতাংশ বেড়ে ১,৩০৮.০৬ ডলারে পৌঁছেছে।
এদিকে দেশের বাজারে প্রতিভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের প্রতিভরি ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতিভরি ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতিভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ২ জুন স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর