• ঢাকা
  • ঢাকা, বুধবার, ১২ আগস্ট, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ২ মিনিট পূর্বে
প্রচ্ছদ / জাতীয় / বিস্তারিত
নিউজ ডেস্ক
বিডি২৪লাইভ, ঢাকা
প্রকাশিত : ১২ আগস্ট, ২০২৬, ০৯:৩৩ সকাল
এফইআরবির সেমিনারে জ্বালানিমন্ত্রী

জ্বালানি তেল বিক্রিতে বেসরকারি খাতকেও সুযোগ দিতে নীতিমালা হচ্ছে

ছবি: সংগৃহীত

দেশের বেসরকারি খাতকে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের সুযোগ দিতে সরকার একটি সাধারণ নীতিমালা প্রণয়ন করছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি যোগ্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও যেন জ্বালানি তেল আমদানি ও বিক্রি করতে পারে, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা ক্লাবের সামসন এইচ চৌধুরী হলে ‘জ্বালানি খাতের সংকট : সম্ভাবনা ও উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ (এফইআরবি) এ সেমিনারের আয়োজন করে।

জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বেসরকারি খাতকে সুযোগ দিতে চাই। ভারতে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও জ্বালানি তেল বিক্রি করে। এতে গ্রাহকরা যেখানে কম দামে তেল পাবেন, সেখান থেকেই কিনতে পারবেন।’

তিনি জানান, বর্তমানে সরকার বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকেও অকটেন-পেট্রলসহ কিছু জ্বালানি সংগ্রহ করছে। এ কারণে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে জ্বালানি তেল আমদানি ও বিপণনের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, সরকার বেসরকারি বিনিয়োগবান্ধব এবং বিশেষ করে জ্বালানি খাতে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়াতে আগ্রহী। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার জন্য নয়, বরং যোগ্য সব বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যাতে এ ব্যবসায় অংশ নিতে পারে, সে জন্যই সাধারণ নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

রুফটপ সোলার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, সরকার এ খাতে আগ্রাসীভাবে এগোচ্ছে। বিনিয়োগবান্ধব নীতিমালা করা হয়েছে এবং পাঁচ বছরের কর অবকাশসহ বিভিন্ন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করা, যা অর্জন করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

তিনি বলেন, ঢাকা থেকে শুরু করে সারা দেশে ক্লাস্টারভিত্তিক ও অপেক্স মডেলে রুফটপ সোলার স্থাপনে বেসরকারি বিনিয়োগকে উৎসাহিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে সরকার সরাসরি বিনিয়োগ করবে না; বেসরকারি বিনিয়োগকারীরাই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবেন।

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে মন্ত্রী বলেন, সরকার কয়লা ব্যবহার করে আরও বিদ্যুৎকেন্দ্র করার কথা ভাবছে। তবে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে অর্থায়ন কমে যাওয়ায় বিষয়টি সতর্কতার সঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে।

ভোলার গ্যাস নিয়ে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় জ্বালানি প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের সঙ্গে সহযোগিতার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর আলোচনা হয়েছে। এরপর পেট্রোনাসের সঙ্গে অনলাইন বৈঠক এবং তাদের চেয়ারম্যানের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল মালয়েশিয়া সফর করে দেশে ফিরেছে। পেট্রোনাসের সঙ্গে সহযোগিতার মাধ্যমে ভোলার গ্যাস নিয়ে কাজ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।

শিল্প খাতে গ্যাসসংকটের প্রভাব তুলে ধরে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, গ্যাসের চাপ কম থাকলে শিল্পোদ্যোক্তাদের ব্যবসা ও নগদ প্রবাহে বড় ধরনের প্রভাব পড়ে। এতে ব্যাংকঋণ খেলাপি হওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়। এ কারণে কোনো ব্যবসায়ী যেন জ্বালানি সংকটের কারণে ব্যাংকের ‘লাল খাতায়’ না ওঠেন, সেটি তিনি চান।

এলএনজি সরবরাহ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি ঘটনার কারণে এলএনজি সরবরাহে সমস্যা তৈরি হয়েছে, যার প্রভাব সারা দেশে পড়েছে। শিল্প-কারখানা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে বিষয়টি সরকার গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির চাহিদা এবং সরবরাহের মধ্যে বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে। সরকার এ বাস্তবতা অস্বীকার করছে না এবং সংকটের দায় এড়ানোরও সুযোগ নেই।

তিনি বলেন, জনগণ ভোট দিয়ে সরকারকে নির্বাচিত করেছে। তাই যারা নিয়মিত বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে ভুগছেন, তাদের কাছে সরকারের পক্ষ থেকে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করা হচ্ছে।

অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এই সংকটের তাৎক্ষণিক কোনো একক সমাধান নেই। সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে এবং নেওয়া উদ্যোগগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়ন করাই সরকারের লক্ষ্য।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বুয়েটের সাবেক অধ্যাপক ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন। তিনি বলেন, অতীতে যেসব বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছিল, সেগুলো এখন বাস্তব সমস্যায় পরিণত হয়েছে। নতুন সরকারের সামনে আর ভুল করার সুযোগ নেই।

তাৎক্ষণিক সংকট মোকাবেলায় এফএসআরইউ ও এলএনজি আমদানির পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, এগুলো দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। কারণ জ্বালানি সংকটের পাশাপাশি ডলার সংকটও বড় সমস্যা। সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা না গেলে জ্বালানি সংকটের স্থায়ী সমাধান কঠিন হবে।

প্যানেল আলোচনায় জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বর্তমান জ্বালানি সংকটের তাৎক্ষণিক কোনো একক সমাধান নেই। দেশে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমছে। তাই গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী জ্বালানি আমদানি, কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং দ্রুত দুই থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা প্রয়োজন।

ক্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা শামসুল আলম বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে নতুন সরকারকে আগের ধারাবাহিকতা থেকে বেরিয়ে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। তা না হলে ব্যর্থতার দায় বর্তমান সরকারকেও নিতে হবে।

ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী বলেন, জ্বালানি চাহিদা পূরণে কোনো একটি উৎসের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তেল-গ্যাস ও এলএনজিসহ সব ধরনের উৎসকে কাজে লাগাতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে আরও বেশি সম্পৃক্ত করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ইনডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার অ্যাসোসিয়েশনের (বিপ্পা) সভাপতি ডেভিড হাসনাত বলেন, গ্যাসের ঘাটতির কারণে দেশে প্রায় সাত হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যাচ্ছে না। এ সংকট মোকাবেলায় সর্বোচ্চ দুই বছরের মধ্যে তৃতীয় এফএসআরইউ বাস্তবায়ন করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণও জরুরি।

সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এফইআরবির চেয়ারম্যান এম আজিজুর রহমান। স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সেরাজুল ইসলাম সিরাজ। সঞ্চালনায় ছিলেন ইকবাল আহসান ও শাকিলা জেরিন।

এতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চেয়ারম্যান রেজাউল করিম, বাংলাদেশ সাসটেইনেবল অ্যান্ড রিনিউঅ্যাবল এনার্জি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআরইএ) সভাপতি মোস্তফা আল মাহমুদ, বাংলাদেশ এলপিজি অটো গ্যাস স্টেশন অ্যান্ড কনভারশন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ সিরাজুল মাওলাসহ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, নীতিনির্ধারক, বেসরকারি জ্বালানি খাতের উদ্যোক্তা এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

কুশল/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:

BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]