আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে চুরি ও অর্থপাচারের কারণেই বর্তমান সময়ে জনগণকে চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
শনিবার (৬ জুন) সকালে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে যে অনিয়ম, দুর্নীতি ও অর্থপাচার হয়েছে, তার আর্থিক প্রভাব এখনও বহন করতে হচ্ছে। তবে মূল্য সমন্বয়ের ফলে সাধারণ মানুষের ওপর যাতে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে, সে লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। তার দাবি, এসব উদ্যোগের ফলে দেশের প্রায় ৬৫ শতাংশ মানুষ মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব থেকে সুরক্ষা পাচ্ছেন।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা দুর্নীতির চক্র থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসা সহজ নয়। এ খাতকে স্বাভাবিক ও টেকসই অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সময় ও ধারাবাহিক প্রচেষ্টা প্রয়োজন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) বিদ্যুতের দাম সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও সরকারের অনুরোধে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের স্বার্থ বিবেচনা করে শূন্য থেকে ৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী গ্রাহকদের ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে।
ফলে এ শ্রেণির গ্রাহকদের অতিরিক্ত কোনো বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করতে হবে না বলে তিনি জানান।
তিনি আরও বলেন, একই বিবেচনায় অকটেন ও পেট্রোলের দাম বাড়ানো হলেও ডিজেলের মূল্য দ্বিতীয় দফায় বাড়ানো হয়নি।
ডা. জাহেদ অভিযোগ করেন, অতীতে কিছু প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে দেশের বিদ্যুৎ খাতকে আমদানিনির্ভর করে রাখা হয়েছিল, যার প্রভাব এখনো অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতে বিদ্যমান।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর