কক্সবাজারের চকরিয়ায় বন্যপ্রাণী পাচারচক্রের একটি গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়ে একটি বিরল মুখপোড়া হনুমান ও ১২টি কচ্ছপ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। এ সময় পাচারচক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে একজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলো দেশের বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পাচারের প্রস্তুতি চলছিল বলে ধারণা করছে বন বিভাগ।
সোমবার (৮ জুন) সন্ধ্যার দিকে চকরিয়া উপজেলার ভাঙ্গারমুখ বাজার এলাকার একটি বাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করে বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রামের অধীনস্থ চুনতি বনরেঞ্জের একটি বিশেষ টিম।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকে মো. হাদিস রহমান (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। তার বাড়ি ঢাকার মিরপুর-১১ এলাকার রোড নং-৩ কাঁচাবাজার সংলগ্ন এলাকায়।
বন বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন বনাঞ্চল থেকে বিরল ও সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করে আসছিল। সম্প্রতি গোপন সংবাদের মাধ্যমে জানা যায়, চকরিয়ার একটি বাড়িতে পাচারের উদ্দেশ্যে কয়েকটি বন্যপ্রাণী মজুদ করে রাখা হয়েছে। পরে তথ্যের সত্যতা যাচাই করে সেখানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে একটি মুখপোড়া হনুমান ও ১২টি কচ্ছপ উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলো বাংলাদেশের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনের আওতায় সুরক্ষিত প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।
চুনতি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের রেঞ্জ কর্মকর্তা আনিসুজ্জামান শেখ বলেন, 'উদ্ধারকৃত প্রাণীগুলো সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী। এ ঘটনায় আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইন অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।'
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রামের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা আবু নাছের মোহাম্মদ ইয়াসিন নেওয়াজ বলেন, 'বন্যপ্রাণী শিকার, হত্যা, আটকে রাখা, কেনাবেচা কিংবা পাচার করা আইনত গুরুতর অপরাধ। অপরাধের ধরন অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১২ বছরের কারাদণ্ড এবং ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার বিধান রয়েছে।'
তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের বনভূমিকে কেন্দ্র করে সক্রিয় একাধিক পাচারচক্রের বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বন্যপ্রাণী পাচার রোধে ভবিষ্যতেও নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া প্রাণীগুলোর স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সালাউদ্দিন/সাএ
সর্বশেষ খবর