বন্ধ ৬টি চিনিকল চালুর দাবি, না মানলে ১০ আগস্ট ‘মার্চ টু পিএমও’ ঘোষণা দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন রাষ্ট্রায়ত্ব চিনিকল রক্ষা সংগ্রাম জাতীয় কমিটি। গত ১৮ জুন ২০২৬, বৃহস্পতিবার, সময় সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের আকরম খাঁ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ৬ টি বন্ধ চিনিকল আধুনিকীকরণ করে পুনরায় চালু করার সরকারি ঘোষণা বাস্তবায়ন করতে চান নেতারা। এ সময় এক লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল রক্ষা সংগ্রাম জাতীয় কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ আল কাফি রতন।
সংগঠনের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আগামী এক মাসের মধ্যে সরকার সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না নিলে ‘মার্চ টু পিএমও’ কর্মসূচির মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। সব কর্মচারী-শ্রমিকদের নিয়ে পর্যায়ক্রমে রাজপথেও কর্মসূচি করতে বাধ্য হবেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি মানস নন্দী, একই নামে অন্য সংগঠনের সভাপতি জহুরুল ইসলাম, রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল রক্ষা সংগ্রাম জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক কামরুজ্জামান ফিরোজ, সদস্য শামীম ইমাম এবং ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশনের সভাপতি ফয়জুল হাকিম লালা প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালুর দাবিতে বিভিন্ন উদ্যোগের অংশ হিসেবে সরকার একটি টাস্কফোর্স গঠন করে। টাস্কফোর্সের সুপারিশের ভিত্তিতে শিল্প মন্ত্রণালয় ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর তিন ধাপে ৬টি চিনিকলের মাড়াই কার্যক্রম পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত নেয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রথম ধাপে শ্যামপুর ও সেতাবগঞ্জ, দ্বিতীয় ধাপে পঞ্চগড় ও পাবনা এবং তৃতীয় ধাপে কুষ্টিয়া ও রংপুর চিনিকল চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
নেতাদের ভাষ্য, চলতি মৌসুমে প্রথম পর্যায়ে শ্যামপুর ও সেতাবগঞ্জ চিনিকল চালুর জন্য একাধিক সভা ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম প্রায় সম্পন্ন হলেও অর্থ মন্ত্রণালয়ের অসম্মতির কারণে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। ফলে ২০২০ সালে জারি করা মাড়াই স্থগিতাদেশ কার্যত বহাল রাখা হয়েছে।
তাঁদের অভিযোগ, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন সরকার দেশি-বিদেশি চক্রান্ত ও আমদানিনির্ভর ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর স্বার্থে ৬টি রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকল বন্ধ করে দেয়। বর্তমান অবস্থান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনার পরিপন্থী এবং এর মাধ্যমে চিনি আমদানিকারক সিন্ডিকেটের স্বার্থ সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, এতে চাকরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে এবং উত্তরাঞ্চলের কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের জীবিকাও হুমকির মুখে পড়েছে।
বন্ধ চিনিকলগুলোর চাকরিচ্যুত শ্রমিক-কর্মচারীদের ভবিষ্যৎ কার্যতঃ অনিশ্চয়তার কবলে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। একইসঙ্গে দেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষকসমাজ ও সংশ্লিষ্ট জনপদের বেকারত্ব আরও বৃদ্ধি পাবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেছে।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার হচ্ছে বন্ধ কল-কারখানা চালু করা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। ফলে সরকারের কাছে আমাদের দাবি হচ্ছে মাড়াই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে পূর্বের সিদ্ধান্তানুযায়ি বন্ধ চিনিকলসমূহ পর্যায়ক্রমে চালু করুন এবং তার জন্য প্রয়োজনীয় আর্থিক বরাদ্দ প্রদান করুন। সেইসঙ্গে কারখানাগুলো লাভজনকভাবে চালাতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপসমূহ যেমন, দুর্নীতি বন্ধ করা, চিনিকলে আধুনিক যন্ত্রাংশ সংযোজন, মেরামত ও আধুনিকায়ন, আখের ক্রয়মূল্য বৃদ্ধি করে স্থানীয় পর্যায়ে আখ চাষ বাড়ানো, আখ চাষিদের শিল্প ঋণ নয়- কৃষি ঋণ প্রদান, চিনির উপজাতভিত্তিক পণ্যের উৎপাদন ও বহুমুখীকরণের পাশাপশি উচ্চফলনশীল বীজ, সার-কীটনাশক ইত্যাদি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আখ চাষ ও চিনি শিল্প রক্ষা করতে এর বিকল্প নেই ।
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর