তিন দিন ধরে নিখোঁজ ছিলেন মিন্টু চন্দ্র মোহন্ত। পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজনের বাড়ি থেকে শুরু করে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করেছেন। প্রতিটি মুহূর্ত কেটেছে উৎকণ্ঠা আর অপেক্ষায়। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান হলো এক হৃদয়বিদারক পরিণতিতে। শুক্রবার সন্ধ্যায় গ্রামের একটি পুকুরে ভেসে ওঠে তার নিথর দেহ।
গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার কামারদহ ইউনিয়নের লালবাগ গ্রামের সরকারি একটি পুকুর থেকে শুক্রবার (১৯ জুন) রাত প্রায় ৮টার দিকে মিন্টু চন্দ্র মোহন্তের (৪০) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত মিন্টু চন্দ্র মোহন্ত ওই গ্রামের নিশি চন্দ্র মোহন্তের ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার গভীর রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান মিন্টু। এরপর আর তিনি ফিরে আসেননি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে স্বজনদের উৎকণ্ঠা।
শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে স্থানীয় কয়েকজন গ্রামের সরকারি পুকুরে একটি মরদেহ ভাসতে দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ। সেখানে গিয়ে স্বজনরা মরদেহটি মিন্টুর বলে শনাক্ত করেন।
নিহতের ছোট ভাই গৌতম কুমার মোহন্ত বলেন, “তিন দিন ধরে ভাইয়ের কোনো খোঁজ পাচ্ছিলাম না। কোথায় গেল, কী হলো—কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। সন্ধ্যায় পুকুরে লাশ ভাসার খবর শুনে গিয়ে দেখি, সেটি আমার ভাই।”
এদিকে নিহতের স্ত্রী অনিতা রানী মোহন্ত জানান, মিন্টু দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। অতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে তিনি ভারসাম্য হারিয়ে পুকুরে পড়ে গিয়ে মারা যেতে পারেন বলে তার ধারণা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) স্বপন কুমার সরকার বলেন, স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মিন্টুর আকস্মিক মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিন দিন ধরে যার ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনরা, শেষ পর্যন্ত তাকে ফিরে পেতে হলো নিথর দেহ হিসেবে—এই বেদনা যেন কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর