সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা বেশি এমন নেতৃবৃন্দদের নিয়েই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপিতে নেতৃত্বে পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন দলের কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতারা। এবং এই বিষয়টি নিয়ে সরকার প্রধান প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সাথে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে বলে জানা যায়।
ঢাকা মহানগর উত্তরে সাধারণ নেতাকর্মীদের মাঝে যে নামটি সবচেয়ে বেশি আলোচনায় এসেছে তা হল সৎ, ত্যাগী, রাজপথের সাহসী মুখ এবং কারা নির্যাতিত সংগ্রামী নেতা জনাব তুহিরুল ইসলাম তুহিন। তিনি ঢাকা মহানগর উত্তরে বর্তমান যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্বে আছেন। আসন্ন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হওয়ার আশা প্রকাশ করছেন। স্থানীয় নেতাকর্মীদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়।
এছাড়া ঢাকা মহানগর উত্তরে বর্তমান আহ্বায়ক আমিনুল হক ও সদস্যসচিব মোস্তফা জামানের নাম আলোচনায় রয়েছে আসন্ন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে। পাশাপাশি যুগ্ম আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান সেগুন, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, মহানগর সিনিয়র সদস্য সাবেক কমিশনার আনোয়ারুজ্জামান আনোয়ার, যুবদলের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মামুন হাসান, যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি, এবিএম আব্দুর রাজ্জাক, আতাউর রহমান চেয়ারম্যান এর নাম আসন্ন পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য আলোচনায় এসেছে।
জাতীয় কাউন্সিলের আগেই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস মিলছে। বর্তমান আহ্বায়ক কমিটির পরিবর্তে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়ে দলের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে। রাজধানীর রাজনীতিতে দলকে আরো সংগঠিত ও মাঠমুখী করতে নতুন ও পুরোনো নেতৃত্বের সমন্বয়ে কমিটি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে। বিএনপির একাধিক সূত্র বলছে, আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়, ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নেতাদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে। কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের আগেই ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ বিএনপির নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে। সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন পর্যায়ে খোঁজখবর নিচ্ছে বলেও জানা গেছে।
অন্য দিকে, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপিতে আলোচনায় যারা- আনম সাইফুল ইসলাম তানভীর আহমেদ রবীন সরলার, গাজী রেজাউল হোসেন রিয়াজ, কফিল উদ্দিন আহমেদ, হাজী মো. ইউসুফ, সদস্য এজিএম
শামসুল হক ও সাবেক ছাত্রনেতা আডি, খন্দকার জিল্লুর রহমানের নামও সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছে। অন্যদিকে দক্ষিণ মহানগরে বর্তমান আহ্বায়ক রফিকুল আলম মজনু, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আনম সাইফুল ইসলাম, সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, যুগ্ম আহ্বায়ক
সাইদুর রহমান মিন্টু, এডভোকেট মকবুল হোসেন সরদার, লিটন মাহমুদ, সাইদুর রহমান মিন্টু। পাশাপাশি মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নবীউল্লাহ নবীর নাম সহ কয়েকজন নেতার নাম আলোচনায় এসেছে।
দলীয় নেতাদের মতে, রাজধানীতে বিএনপির সাংগঠনিক ভিত্তি আরো শক্তিশালী করতে এমন নেতৃত্ব বেছে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যারা দীর্ঘদিন রাজপথে সক্রিয় থেকেছেন এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতাই নতুন নির্বাচনের প্রধান বিবেচ্য বিষয় হতে পারে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর