লিওনেল মেসির জাদু যেন থামছেই না। ২০২৬ বিশ্বকাপে জর্ডানের বিপক্ষে গোল করে নিজের নামের পাশে যোগ করলেন দুটি অনন্য রেকর্ড। বদলি হিসেবে মাঠে নেমে ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত এক গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা সাত ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার হওয়ার পাশাপাশি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনও আরও দৃঢ় করেছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক।
আগেই নকআউট পর্ব নিশ্চিত করে ফেলায় জর্ডানের বিপক্ষে ম্যাচে মেসিকে শুরুর একাদশে রাখেননি কোচ লিওনেল স্কালোনি। তবে তার অনুপস্থিতিতেও দাপট দেখায় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। প্রথমার্ধে দুই গোল করে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।
দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নামেন মেসি। মাঠে নেমেই আক্রমণভাগে নতুন গতি এনে দেন তিনি। একপর্যায়ে বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। সেই সুযোগই কাজে লাগিয়ে নিজের অসাধারণ দক্ষতার আরেকটি নজির দেখান আটবারের ব্যালন ডি'অরজয়ী এই তারকা।
অপেক্ষার অবসান ঘটে ম্যাচের ৮০ মিনিটে। ডি-বক্সের প্রায় ২৫ গজ বাইরে ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। সবাই যখন মেসির চিরচেনা বাঁকানো শটের অপেক্ষায়, তখন তিনি নিচু শটে জর্ডানের রক্ষণদেয়াল ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল পাঠিয়ে দেন জালে। গোলরক্ষক ইয়াজিদ আবুলাইলা ভুল দিকে ঝাঁপ দেওয়ায় বলের নাগাল পাননি।
এই গোলের মাধ্যমে আর্জেন্টিনা ৩-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে। একই সঙ্গে বিশ্বকাপ ইতিহাসেও নতুন অধ্যায় রচনা করেন মেসি। তিনি বিশ্বকাপে টানা সাত ম্যাচে গোল করা প্রথম ফুটবলার হিসেবে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েন। এর আগে ফ্রান্সের জাস্ট ফন্টেইন ও ব্রাজিলের জাইরজিনহো টানা ছয় ম্যাচে গোল করে যৌথভাবে শীর্ষে ছিলেন।
এছাড়া চলমান বিশ্বকাপে এটি ছিল মেসির ষষ্ঠ গোল। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক ও অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে জোড়া গোলের পর জর্ডানের বিপক্ষেও গোল করে বিশ্বকাপে নিজের মোট গোলসংখ্যা ১৯-এ উন্নীত করেন তিনি, যা টুর্নামেন্টের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
গ্রুপ পর্বে টানা তিন জয় নিয়ে আত্মবিশ্বাসী আর্জেন্টিনা শেষ ষোলোর টিকিট নিশ্চিত করেছে। আগামী ৪ জুলাই মায়ামিতে কেপ ভার্দের বিপক্ষে মাঠে নামবে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
বিশ্বকাপের মঞ্চে একের পর এক রেকর্ড নিজের করে নেওয়া মেসি আবারও প্রমাণ করলেন, বয়স বাড়লেও ইতিহাস গড়ার ক্ষমতা এতটুকু কমেনি। জর্ডানের বিপক্ষে তার এই গোল শুধু আর্জেন্টিনার জয়ই নিশ্চিত করেনি, বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসেও যোগ করেছে নতুন এক অধ্যায়।
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর