দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশে কৃষকরা মৌসুমি সবজি ও ফলের ন্যায্য দাম না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মৌসুমে অতিরিক্ত সবজি ও ফল উৎপাদন হলে বাজারে দাম পড়ে যায়, আর তখন কৃষকের ফসল লোকসানে বিক্রি করতে হয়। কৃষকের আয় বৃদ্ধি, ফসলের অপচয় কমানো এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সারাদেশের ন্যায় বান্দরবানের লামা উপজেলায় দুইটি ‘ফারমার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ’ নির্মাণ করা হয়েছে। এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। বাংলাদেশের কৃষিতে প্রযুক্তির নতুন সংযোজন মিনি কোল্ড স্টোরেজ। জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অর্থায়নে কৃষি মন্ত্রণালয় বাস্তবায়িত ‘জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সাশ্রয়ী কোল্ড স্টোরেজ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ফারমার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণ করা হয়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ সোহেল রানা বলেন, লামা পৌরসভার ছাগলখাইয়া হেডম্যান পাড়ায় ১টি ও রূপসীপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব শিলেরতুয়া এলাকায় ১টি ফারমার্স মিনি কোল্ড স্টোরেজ করা হয়েছে। কৃষকরাই কমিটির মাধ্যমে কোল্ড স্টোরেজ পরিচালনা করবে। কিছু কাজ বাকী রয়েছে, তা সম্পন্ন হলে কৃষকের হাতে কোল্ড স্টোরেজ গুলো হস্তান্তর করা হবে। খোলা আকাশের নিচে কনটেইনারভিত্তিক ও সৌরচালিত কোল্ড স্টোরেজ গুলো ৬-৭ টন সবজির ধারণক্ষমতা সম্পন্ন। কনটেইনার মডেলেরস কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণে খরচ হয় ১৫ লাখ টাকা। ঘরভিত্তিক কোল্ড স্টোরেজে ১০ টন পণ্য রাখা যায় এবং খরচ প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। প্রয়োজনে কৃষকরা নিজেরাও বাড়িতে তৈরি করে নিতে পারবেন অল্প খরচে। আমরা কৃষকদের কারিগরি সহায়তা দেবো।
তিনি আরো বলেন, এতে করে মধ্যস্বত্বভোগীদের কৃষি সিন্ডিকেট ভেঙ্গে যাবে। কৃষকরা ফসলের প্রকৃত দাম পাবে। সোলারভিত্তিক ও মোবাইল অ্যাপ নিয়ন্ত্রিত এই মিনি কোল্ড স্টোরেজ কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে। ইন্টারনেটভিত্তিক এবং রিয়েল টাইম তদারক সুবিধা থাকায় মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ঘরে বসে এই মিনি কোল্ডস্টোরেজ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। মিনি কোল্ড স্টোরেজ পুরোপুরি কৃষকবান্ধব প্রযুক্তি। বাংলাদেশের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে। এতে স্থানীয় ও আমেরিকান হাই-টেক ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছে। সোলারচালিত এ প্রযুক্তিতে তাপমাত্রা ও আর্দ্রতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। টমেটো, ফুলকপি, মরিচ, লাউ, আম, ড্রাগন ফল সহ নানা ফসল এতে কয়েকদিন থেকে কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে। প্রচলিত কোল্ড স্টোরেজের তুলনায় এই মিনি সংস্করণের খরচ প্রায় ৭০ শতাংশ কম।
রূপসীপাড়া ইউনিয়নের পূর্ব শিলেরতুয়া এলাকার কৃষক সিরাজুল ইসলাম, রমজান আলী, মনোয়ারা বেগম বলেন, আমাদের এলাকায় প্রচুর সবজি ও ফল উৎপাদিত হয়। উৎপাদন বাড়লে সবজির দাম কমে যায়। কোল্ড স্টোরেজ হওয়ায় আমরা এখন পণ্যের সঠিক মূল্য পাবো। ভবিষ্যতে এ প্রকল্পকে আরও সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন, যাতে কৃষকের আয় বাড়ে, ফসলের অপচয় কমে এবং গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী হয়।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অংক্যানু মার্মা ও অঞ্জুশ্রী দে বলেন, শীতকালে শালগম, মুলাসহ বিভিন্ন ধরনের সবজি উৎপন্ন হয়। সে সময় দাম কম থাকে। সংরক্ষণের অভাবে পঁচে যায়। এতে কৃষকরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য সরকার কৃষকপর্যায়ে মিনি কোল্ড স্টোরেজের ব্যবস্থা করেছে। এতে প্রয়োজনমত সবজি সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে ভালো দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে। এতে কৃষকের ক্ষতির পরিমাণ কমবে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর