লালমনিরহাট।। উজানের পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে তিস্তা নদীর পানি হু হু করে বাড়ছে। দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এর আগে বিকেল তিনটায় ব্যারাজ পয়েন্ট দিয়ে পানি বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। দ্রুত পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ডালিয়া ব্যারাজের সবকটি জলকপাট খোলা রাখা হয়েছে।
এদিকে বিকেল থেকে হঠাৎ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের তিস্তাপাড়ের চরাঞ্চল ও নিম্নাঞ্চলগুলোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। এতে নদী তীরবর্তী হাজারো মানুষম ভোগান্তিতে পড়েছেন, পানির নিচে তলিয়ে গেছে শত শত একর চরের ফসলি জমি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আজ রোববার(২৮ জুন) সকাল থেকেই তিস্তার পানি দ্রুত বাড়তে থাকে। বিকেলে বিপদসীমার নিচে থাকলেও সন্ধ্যা ৬ টায় ব্যারাজ পয়েন্টে বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী, ডাউয়াবাড়ী এবং আদিতমারী উপজেলার মহিষখোঁচার বেশ কিছু নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। হঠাৎ করে বাড়িঘরে পানি প্রবেশ করায় চরাঞ্চলের বাসিন্দারা গবাদি পশু ও আসবাবপত্র নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।
হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়নের চরাঞ্চলের বাসিন্দা রবিউল হাসান বলেন, নদীতে এত তাড়াতাড়ি পানি আসবে আমরা ভাবতেই পারি নাই। চরের জমিতে আমার বাদাম চাষ করা আছিল। আর মাত্র কয়েকটা দিন পাইলে বাদামগুলা ঘরে তোলা যাইতো। এখন সব পানির তলে। একই ধরনের ক্ষয়ক্ষতির কথা জানান সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের পাকার মাথা এলাকার কৃষক মশিয়ার রহমান। ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, হঠাৎ করেই হু হু করে পানি এসে খেতের সব বাদাম ডুবিয়ে দিল।
এদিকে তিস্তা ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ব্যারেজের ৪৪টি জলকপাট (স্লুইস গেট) খুলে দিয়ে পানি নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে উজানের ঢল অব্যাহত থাকায় পানির চাপ বাড়ছে।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শুনীল কুমার রায় জানান, উজানের ভারী ঢলের কারণে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং ডালিয়া পয়েন্টে এটি বিপদসীমার ৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। নদীর তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে। আমরা সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর