ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে হতদরিদ্রদের জন্য বরাদ্দ একটি সরকারি বাইসাইকেল অন্য একজনের নামে গ্রহণ করে নিজের নাতনিকে উপহার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা জামায়াতের আমির ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। পরে শেষ পর্যন্ত সাইকেলটি উপজেলা প্রশাসনের কাছে ফেরত দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সরকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় ২০২৫–২৬ অর্থবছরে বুধবার উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে ২৪টি বাইসাইকেলসহ ছাগল, স্প্রে মেশিন, সেলাই মেশিন, ফুটবল ও হুইলচেয়ার বিতরণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দীপা রানী সরকারের উপস্থিতিতে এসব সামগ্রী বিতরণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, এ সময় এক মাদ্রাসাছাত্রের নামে বরাদ্দ থাকা একটি বাইসাইকেল নিজেই স্বাক্ষর করে গ্রহণ করেন তাজুল ইসলাম। পরে সেটি তিনি তার নাতনি মারিয়াকে উপহার দেন।
ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়। পরবর্তীতে ঝিনাইদহ-৩ আসনের জামায়াত-সমর্থিত সংসদ সদস্য মতিয়ার রহমানের হস্তক্ষেপে বুধবার দুপুরে বাইসাইকেলটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ফেরত দেওয়া হয়। পরে সেটি প্রকৃত উপকারভোগী সুমাইয়া খাতুনের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে তাজুল ইসলাম বলেন, তার ছেলে বেকার এবং আর্থিক সংকটে থাকায় তিনি সাইকেলটি নাতনিকে দিয়েছিলেন। তবে বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হওয়ায় পরে সেটি ফেরত দিয়েছেন।
কোটচাঁদপুরের ইউএনও দীপা রানী সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সাইকেল বিতরণে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ওঠার পর স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শে সেটি ফেরত নেওয়া হয়। পরে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত উপকারভোগী সুমাইয়া খাতুনকে সাইকেলটি দেওয়া হয়েছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর