মাঠে পুরো ১২০ মিনিট ছিল তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা। প্রতিটি বলের দখল, প্রতিটি ট্যাকল আর প্রতিটি দ্বৈরথে ছিল জয়ের মরিয়া লড়াই। প্রতিপক্ষকে এক মুহূর্তও ছাড় দিতে রাজি ছিলেন না কেপ ভার্দের ফুটবলাররা। বিশেষ করে লিওনেল মেসিকে থামাতে প্রয়োজন হলে ফাউল করতেও তারা দ্বিধা করেননি।
কিন্তু শেষ বাঁশি বাজতেই বদলে যায় দৃশ্যপট। প্রতিদ্বন্দ্বিতার উত্তাপ মিলিয়ে যায়, জায়গা নেয় পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সৌহার্দ্য আর হাসিমুখের মুহূর্ত।
যে মেসিকে কিছুক্ষণ আগেও কঠিন ট্যাকলে আটকে রাখার চেষ্টা চলছিল, ম্যাচ শেষে তাকেই ঘিরে ধরেন কেপ ভার্দের খেলোয়াড়রা। কেউ স্মৃতি ধরে রাখতে সেলফি তোলেন, কেউ আবার চেয়ে নেন তাঁর জার্সি।
এই দৃশ্য দেখে মেসিও মজা করতে ছাড়েননি। হাসতে হাসতে আর্জেন্টাইন সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘ওরা তো আমার সবকিছুই নিয়ে গেল! জার্সি, শর্টস... মজার বিষয় হলো, পুরো ম্যাচজুড়েই আবার আমাকে লাথিও মেরেছে।’ পরে রসিকতার সুরেই যোগ করেন, ‘জার্সিও নিল, লাথিও দিল!’
ম্যাচ শেষে কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সী গোলরক্ষক ভোজিনিয়ার সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলেন মেসি। বিশ্বমঞ্চে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে আলোচনায় আসা এই গোলরক্ষক পরে সেই মুহূর্তের স্মৃতিচারণ করেন।
ভোজিনিয়া বলেন, ‘মেসি আমার কাছে এসে বলেছিলেন, আমি দারুণ খেলেছি এবং আমার অর্জনে সবাই গর্বিত হওয়া উচিত। আমি তাঁকে ধন্যবাদ জানাই। এরপর জার্সি বদলের অনুরোধ করলে তিনি হাসিমুখেই রাজি হন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই মুহূর্ত আমি মনে রাখব।’
মাঠের উত্তপ্ত লড়াই শেষে দুই দলের খেলোয়াড়দের এই আন্তরিকতা আবারও মনে করিয়ে দিল, ফুটবলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা যতই তীব্র হোক, খেলার শেষে সম্মান আর পারস্পরিক শ্রদ্ধাই সবচেয়ে বড় পরিচয়।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর