বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র আক্ষরিক অর্থেই একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেন, ‘আমাদের গৌরবময় সংসদ ভবনের নকশা করেছেন বিখ্যাত মার্কিন স্থপতি লুই কান।
ঠিক তেমনি আমেরিকার আধুনিক স্থাপত্য নির্মাণে অনন্য অবদান রেখেছেন বিশিষ্ট বাংলাদেশি-আমেরিকান স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ার ফজলুর রহমান খান। এই পারস্পরিক অবদান প্রমাণ করে বাংলাদেশ ও আমেরিকা আক্ষরিক অর্থেই একে অপরের ইতিহাস বিনির্মাণে সহায়তা করেছে।’
শনিবার (৪ জুলাই) জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ঢাকায় মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, “১৭৭৬ সালের ৪ জুলাই আমাদের প্রতিষ্ঠাতারা ঘোষণা করেছিলেন ‘সব মানুষ সমান’।
২৫০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে তিনি বলেন, “'আমেরিকা ফার্স্ট' নীতির আলোকে আমরা বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি আরও বলেন, “এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘদিনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করতে আগ্রহী। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে টেকসই নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা ভবিষ্যৎ অংশীদারিত্বের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হবে।”
ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে মার্কিন কিংবদন্তি সংগীতশিল্পী জর্জ হ্যারিসনের ঐতিহাসিক ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ ছিল এক অনন্য মানবিক উদ্যোগ। আজকের এই সাংস্কৃতিক আয়োজনও সেই একই মানবিক চেতনা ও সাংস্কৃতিক বন্ধনের ধারাবাহিকতা বহন করছে। এটি শুধু কূটনীতি বা বাণিজ্যিক সম্পর্ক নয়, বরং দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব ও দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারিত্বকে আরও সুদৃঢ় করবে।”
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনৈতিক সংলাপ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সন্ত্রাসবাদ দমন, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, শিক্ষা এবং প্রযুক্তি খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের ব্যাপক সুযোগ রয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিরোধী দলের নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত বন্ধু। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া লাখো রোহিঙ্গা শরণার্থীর মানবিক সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক সহায়তা দুই দেশের গভীর অংশীদারিত্বেরই প্রতিফলন।”
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক পরিসরে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ অঙ্গীকার আরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘জাতীয় সংসদ ভবনের আইকনিক স্থাপনার সামনে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের এই আয়োজন দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা, বন্ধুত্ব ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতীক।
জমকালো এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রিপরিষদের সদস্যবৃন্দ, সংসদীয় ককাসের সদস্য, সংসদ সদস্যগণ, মার্কিন দূতাবাসসহ বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকবৃন্দ এবং সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জাতীয় এর সর্বশেষ খবর