প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড গুয়াম ও নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে শক্তিশালী সুপার টাইফুন ‘বাভি’। আবহাওয়াবিদদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ঝড়টি ওই অঞ্চলে আঘাত হানতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোববার থেকেই হাজারো মানুষ নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছেন। খবর হিন্দুস্তান টাইমস।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস) জানিয়েছে, সোমবার ভোরে টাইফুনটি ঘণ্টায় প্রায় ২৬০ কিলোমিটার বেগে উপকূলে আঘাত হানতে পারে। দমকা হাওয়ার গতি ঘণ্টায় ৩১৫ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছানোর আশঙ্কা রয়েছে, যা ক্যাটাগরি-৫ হারিকেনের সমতুল্য। সংস্থাটি ঝড়টিকে ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, টাইফুনের প্রভাবে ভারী বৃষ্টিপাত, আকস্মিক বন্যা এবং জলোচ্ছ্বাসের ঝুঁকি তৈরি হবে। উপকূলে ৩৫ ফুট পর্যন্ত উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে, ফলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় স্থানীয় বাসিন্দারা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। অনেকে বাড়ির জানালা প্লাইউড দিয়ে সুরক্ষিত করছেন, আবার অনেকে আগেভাগেই সরকারি আশ্রয়কেন্দ্র বা হোটেলে আশ্রয় নিয়েছেন। বৈরী আবহাওয়ার কারণে এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গুয়ামে প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার এবং নর্দার্ন মারিয়ানা দ্বীপপুঞ্জে প্রায় ৪০ হাজার মানুষের বসবাস। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের জন্য গুয়ামে পাঁচটি বড় আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সি (ফেমা) খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, বিদ্যুৎ জেনারেটর ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী প্রস্তুত রেখেছে।
জলবায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি, সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া এবং চলমান এল নিনো পরিস্থিতির কারণে সাম্প্রতিক সময়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ঘূর্ণিঝড়গুলো আরও শক্তিশালী ও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর