মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যেই ইরানে আবারও নতুন হামলার খবর পাওয়া গেছে। দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় কোনারাক (Konarak) শহরের নৌবাহিনীর সামরিক এলাকায় যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের স্থানীয় প্রশাসন। তবে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক এই হামলার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা IRNA জানিয়েছে, সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশের গভর্নর মোহাম্মদ ইউনেস হাক্কানির ভাষ্য অনুযায়ী, কোনারাকের নৌবাহিনীর সামরিক অঞ্চলে দুই দফায় বিমান হামলা চালানো হয়। এতে পরপর দুটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। হামলার পর উদ্ধারকারী দল, নিরাপত্তা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও তদন্ত কার্যক্রম শুরু করে। হামলার পেছনে কারা রয়েছে এবং কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা আল জাজিরাকে জানিয়েছেন, গত কয়েক ঘণ্টায় মার্কিন বাহিনী ইরানের ভেতরে কোনো নতুন হামলা চালায়নি। সাম্প্রতিক বিস্ফোরণের কারণ সম্পর্কে তিনি কোনো মন্তব্য না করলেও স্পষ্টভাবে বলেছেন, এসব ঘটনার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র জড়িত নয়।
অন্যদিকে পরিস্থিতি আরও অবনতির আশঙ্কায় কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন সালমানের সঙ্গে টেলিফোনে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে জরুরি আলোচনা করেছেন। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, চলমান সংঘাত, সাম্প্রতিক হামলা এবং মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে দুই নেতা মতবিনিময় করেন।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বুশেহর, চাবাহার, বান্দার আব্বাস ও জাস্ক এলাকার সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর কথা স্বীকার করেছিল। কিন্তু সর্বশেষ কোনারাকে বিস্ফোরণের ঘটনায় ওয়াশিংটন নিজেদের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করায় হামলার প্রকৃত উৎস নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে নতুন হামলার ঘটনা, অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দায় অস্বীকার এবং একই সময়ে সৌদি আরবের সঙ্গে ইরানের জরুরি কূটনৈতিক যোগাযোগ—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে হরমুজ প্রণালী, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তায় এর বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।
সর্বশেষ খবর