বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হওয়ার আগে কিছুটা স্বস্তির খবর পেয়েছে সুইজারল্যান্ড। হাঁটুর চোটের কারণে শেষ ষোলোর ম্যাচে খেলতে না পারা তরুণ ফরোয়ার্ড জোহান মানজাম্বি দ্রুত সেরে উঠছেন। যদিও তার খেলা এখনো নিশ্চিত নয়, তবুও সুইস কোচিং স্টাফ আশাবাদী, গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচে মাঠে নামার মতো ফিটনেস তিনি ফিরে পেতে পারেন।
বাংলাদেশ সময় রোববার (১২ জুলাই) সকাল ৭টায় কানসাস সিটিতে অনুষ্ঠিত হবে আর্জেন্টিনা ও সুইজারল্যান্ডের কোয়ার্টার ফাইনাল। ম্যাচকে ঘিরে সুইস শিবিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় মানজাম্বির ফিটনেস। অন্যদিকে আর্জেন্টিনার প্রধান কোচ লিওনেল স্কালোনি মিশরের বিপক্ষে জয় পাওয়া দলের মূল একাদশে বড় কোনো পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা কম।
ফ্রাইবুর্গের হয়ে দারুণ একটি মৌসুম কাটিয়ে ইউরোপের অন্যতম প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ ফরোয়ার্ড হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন মানজাম্বি। আগামী মৌসুমে ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসলে তার যোগ দেওয়ার সম্ভাবনাও জোরালো। এমন সময়ে বিশ্বকাপে পাওয়া হাঁটুর চোট সুইজারল্যান্ডের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে।
কলম্বিয়ার বিপক্ষে শেষ ষোলোর ম্যাচের আগের শেষ অনুশীলনে হাঁটুতে চোট পান মানজাম্বি। এরপর থেকে তিনি পুনর্বাসন ও চিকিৎসার মধ্যেই রয়েছেন। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। তা সত্ত্বেও কোনো ধরনের ঝুঁকি নিতে চান না প্রধান কোচ মুরাত ইয়াকিন।
মানজাম্বির সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তন নিয়ে ইয়াকিন বলেন, "চিকিৎসকরা যদি মনে করেন সে খেলার জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত, তবেই তাকে মাঠে নামানো হবে।"
সাম্প্রতিক অনুশীলনে হাঁটুতে ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় দেখা গেছে মানজাম্বিকে। তিনি সতীর্থদের সঙ্গে পুরো অনুশীলনে অংশ না নিয়ে আলাদাভাবে ফিটনেস নিয়ে কাজ করেছেন। হাঁটার সময় চোটের কিছুটা প্রভাব চোখে পড়লেও ধীরে ধীরে মাঠে ফেরার প্রক্রিয়ায় যোগ দেওয়ায় সুইস শিবিরে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত মানজাম্বি খেলতে না পারলে তার জায়গায় জিব্রিল সোকে শুরুর একাদশে দেখা যেতে পারে। শেষ ষোলোর ম্যাচে মানজাম্বির অনুপস্থিতিতে আর্দন ইয়াশারিকে সুযোগ দিয়েছিলেন ইয়াকিন। কিন্তু প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না পাওয়ায় প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই তাকে তুলে নেওয়া হয়।
চলতি বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের আক্রমণভাগের সবচেয়ে কার্যকর খেলোয়াড় মানজাম্বিই। এখন পর্যন্ত তিনটি গোল করেছেন তিনি—বসনিয়ার বিপক্ষে দুটি এবং কানাডার বিপক্ষে একটি। পাশাপাশি কানাডা ও আলজেরিয়ার বিপক্ষে একটি করে দুটি অ্যাসিস্টও করেছেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
বিশ্বকাপের শুরুতে অবশ্য নিয়মিত একাদশে জায়গা ছিল না মানজাম্বির। কাতার ও বসনিয়ার বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নামলেও গ্রুপ পর্বের তৃতীয় ম্যাচ থেকেই তিনি শুরুর একাদশে নিজের জায়গা পাকাপোক্ত করে নেন। ধারাবাহিক নৈপুণ্যে খুব দ্রুতই সুইজারল্যান্ডের আক্রমণের প্রধান ভরসায় পরিণত হন তিনি। তবে ঠিক সেই সময় হাঁটুর চোটে ছিটকে পড়ায় বড় ধাক্কা খায় দলটি। এখন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ কোয়ার্টার ফাইনালের আগে মানজাম্বির সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনই নতুন করে আশার আলো দেখাচ্ছে সুইস শিবিরকে।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর