বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠে ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। ফুটবলের অন্যতম ঐতিহাসিক এই দ্বৈরথের আগে একটি বিশেষ অনুরোধ করেছে লিওনেল স্কালোনির দল। বুধবারের ম্যাচে ঐতিহ্যবাহী আকাশি-সাদা হোম জার্সির বদলে গাঢ় নীল অ্যাওয়ে জার্সি পরে মাঠে নামতে চেয়েছিল লা আলবিসেলেস্তে, আর সেই অনুরোধে অনুমতি দিয়েছে ফিফা।
রোববার রাতে আর্জেন্টাইন সাংবাদিক গাস্তন এদুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নীল অ্যাওয়ে জার্সি পরার আবেদন করেছিল আর্জেন্টিনা, যা পরে ফিফা অনুমোদন করে।
চলতি টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মাত্র একবার অ্যাওয়ে কিট পরে খেলেছে স্কালোনির দল। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ডালাসে জর্ডানের বিপক্ষে সেই নীল জার্সিতে ৩-১ ব্যবধানে জিতেছিল তারা।
নকআউটে অ্যাওয়ে জার্সির স্মৃতি সুখকর নয়
বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে নীল অ্যাওয়ে জার্সি পরে আর্জেন্টিনার অতীত খুব একটা সুখকর নয়। ১৯৯০ সালের ফাইনালে এই জার্সিতেই পশ্চিম জার্মানির কাছে হেরেছিল তারা। ২০০৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালেও জার্মানির বিপক্ষে একই জার্সিতে বিদায় নিতে হয়। এরপর ২০১৪ সালের ফাইনালেও গাঢ় নীল জার্সি গায়ে জার্মানির কাছে শিরোপা হাতছাড়া করেন লিওনেল মেসিরা।
ওই ফাইনালের পর বিশ্বকাপের নকআউটে আরও আটটি ম্যাচ খেলেছে আর্জেন্টিনা। তবে একবারও তারা অ্যাওয়ে জার্সি পরেনি। প্রায় এক যুগ পর আবারও নকআউটে নীল জার্সি গায়ে মাঠে নামছে তারা।
‘কাবালা’ কি অনুপ্রেরণা?
অতীতের পরিসংখ্যান খুব ইতিবাচক না হলেও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নীল জার্সি পরার পেছনে থাকতে পারে আর্জেন্টাইনদের সৌভাগ্যে বিশ্বাস, যা দেশটিতে ‘কাবালা’ নামে পরিচিত।
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। এর মধ্যে তিনটি ম্যাচ ছিল নকআউট পর্বে। দুই দলের লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের জয় তিনটি, আর আর্জেন্টিনার দুটি। তবে আর্জেন্টিনার দুটি জয়ের সময়ই তারা হোম জার্সির বদলে গাঢ় নীল অ্যাওয়ে কিট পরে খেলেছিল।
১৯৮৬ সালের স্মরণীয় কোয়ার্টার ফাইনালে, যেখানে দিয়েগো মারাদোনা করেছিলেন ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ এবং ‘হ্যান্ড অব গড’-এর বিতর্কিত গোল, সেদিনও আর্জেন্টিনার গায়ে ছিল নীল জার্সি। একইভাবে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় টাইব্রেকারে ইংল্যান্ডকে হারানোর ম্যাচেও তারা খেলেছিল অ্যাওয়ে কিট পরে।
আর্জেন্টাইন ফুটবলে ‘কাবালা’ বা সৌভাগ্যের বিশ্বাস নতুন কিছু নয়। ম্যাচের দিন নির্দিষ্ট রুটিন অনুসরণ করা, একই জায়গায় বসে খেলা দেখা কিংবা সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে নির্দিষ্ট ছবি প্রকাশ—এসব বহুদিন ধরেই আর্জেন্টাইন ফুটবল সংস্কৃতির অংশ। ২০২২ বিশ্বকাপেও এএফএ সভাপতি ক্লদিও তাপিয়া নিয়মিত লিওনেল মেসি ও রদ্রিগো দে পলের সঙ্গে মাতে পান করার ছবি প্রকাশ করতেন, যা অনেকের কাছে সৌভাগ্যের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল।
বাস্তব কারণও রয়েছে
তবে নীল জার্সি পরার সিদ্ধান্তের পেছনে কেবল কুসংস্কারই নয়, বাস্তব কারণও রয়েছে। সেমিফাইনালে ফিফা ইংল্যান্ডকে 'হোম' দল হিসেবে নির্ধারণ করেছে। ফলে দুই দলের জার্সিতে সাদার আধিক্য থাকায় রঙের সংঘর্ষ এড়াতে আর্জেন্টিনার অ্যাওয়ে কিট পরাই নিয়ম অনুযায়ী সবচেয়ে উপযুক্ত বিকল্প।
এবারের বিশ্বকাপে এটাই হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনার সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা। একদিকে লিওনেল মেসির নেতৃত্বে ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য, অন্যদিকে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আবারও বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে মাঠে নামবে জুড বেলিংহামের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড। ফলে ফুটবল বিশ্বের দৃষ্টি এখন আটলান্টার এই মহারণের দিকেই।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর