স্বাধীনতার এতগুলো বছর পেরিয়ে গেলেও সড়ক সংস্কারের ছোঁয়া লাগেনি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের আরংশাইল গ্রামে। দীর্ঘদিন ধরে চরম অবহেলিত ও খানাখন্দে ভরা এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় এক হাঁটু কাদা-পানি জমে তা এখন যাতায়াতের সম্পূর্ণ অনুপযোগী। চরম উদাসীনতা ও জনপ্রতিনিধিদের দফায় দফায় দেওয়া মিথ্যা আশ্বাসের প্রতিবাদে শেষমেশ ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী সড়কের মাঝেই ধানের চারা রোপণ করে এক ব্যতিক্রমী ও অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
সরেজমিনে আরংশাইল গ্রামে গিয়ে এক বিভীষিকাময় চিত্র দেখা যায়। আরংশাইল থেকে রাজারদীঘি পর্যন্ত এক কিলোমিটার এবং মালতাগাড়ি থেকে শুরু করে রাজবাড়ী মুকুন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তাটি বর্তমানে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। ব্রিটিশ আমল থেকে ব্যবহৃত এই সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন আরংশাইল, মাকরখোলা, রাজারদীঘিসহ প্রায় সাতটি গ্রামের পাঁচ সহস্রাধিক মানুষ চলাচল করেন। বর্ষা মৌসুম আসতেই পুরো সড়কটি যেন একেকটি মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। পিচ্ছিল ও হাঁটু সমান কাদার এই পথ দিয়ে যাতায়াত করা এখন স্থানীয়দের জন্য এক নিত্যদিনের যুদ্ধ।
রাস্তার এমন বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে স্কুল-কলেজগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীরা এবং সাধারণ কৃষকেরা। এলাকার শিক্ষক জাহের আলী এবং স্থানীয় বাসিন্দা হাসান, হুমায়ুন, সাইফুল, রাজ্জাক, নুর ইসলাম ও লতিফ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী ও কৃষিজ পণ্যবাহী যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু রাস্তার অবস্থা এতই শোচনীয় যে, কাদা-পানিতে পিছলে পড়ে অনেক সময় শিক্ষার্থীরা সময়মতো স্কুলেই পৌঁছাতে পারে না। সবচেয়ে বড় বিপদে পড়তে হয় মুমূর্ষু রোগীদের নিয়ে। কোনো জরুরি অ্যাম্বুলেন্স বা যানবাহন এই গ্রামে ঢুকতে চায় না। রোগীকে হাসপাতালে নিতে জান বের হয়ে যায়।
একই গ্রামের এক প্রবীণ বাসিন্দা বিশার উদ্দিন তার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, আমি ছোটবেলা থেকেই এই রাস্তাটা এইরকমই দেখে আসছি। স্বাধীনতার পর বহু সরকার এলো, বহু সরকার গেল, কিন্তু আমাদের এই রাস্তার ভাগ্য বদলাল না। আমরা কি দেশের নাগরিক নই? আমরা এই নরকযাতনা থেকে চিরতরে মুক্তি চাই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কাঁচা সড়কটি পাকাকরণের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে বছরের পর বছর ধরে একাধিকবার দাবি ও অভিযোগ জানানো হলেও, তারা কেবল ‘আশ্বাসের বাণী’ শুনিয়েছেন; বাস্তবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, রাস্তার দুরবস্থার বিষয়টি আমার জানা আছে। ইতোমধ্যে উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলেছি এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।
অন্যদিকে, শেরপুর উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মজিদ জানান, আরংশাইল গ্রামের ওই রাস্তাটি আমাদের দপ্তরের তালিকাভুক্ত রয়েছে। বাজেট বরাদ্দ সাপেক্ষে পর্যায়ক্রমে এটি সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে। বাজেট বরাদ্দের আমলাতান্ত্রিক অজুহাতে আর কতদিন পাঁচ হাজার মানুষকে এই দুর্ভোগ পোহাতে হবে এমন প্রশ্ন এখন আরংশাইলবাসীর। অবিলম্বে সড়কটি পাকাকরণ করে যাতায়াতের উপযোগী করার জন্য এবং এই জনপদকে উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে ঊর্ধ্বতন মহলের ও জেলা প্রশাসনের জরুরি ও সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর