‘হরিদাস চন্দ্র তরুণী ফুলবাড়িয়ায় তওহীদ নামে পরিচিত’ ছিলেন।
২০১৯ সালের দিকে ধর্মান্তরিত হয়ে নাম রাখেন তওহীদ ইসলাম। পিতা-মাতাহীন পরিচয়ে ফুলবাড়িয়া উপজেলার বালিয়ান ইউনিয়নের সাইতানতলা গ্রামে রফিকুল ইসলাম নামের এক সবজি বিক্রেতাকে প্রলোভন দেখিয়ে তার মেয়েকে বিয়ে করেন। এরপর শশুর বাড়িতেই জমি কিনে বসবাস শুরু করেন। শুরুতে গ্রামের অসহায় মানুষদের আর্থিক সহযোগীতা করে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনায় আসেন তিনি। কিছুদিন যেতে না যেতেই তৎকালিন প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তির পরিচয়ে চাকুরিসহ বিভিন্ন তদবির বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়েন হরিদাস চন্দ্র তরুণী ওরফে তওহীদ। শশুর বাড়ির পাশেই সরকারি খাল ভরাট ও জমি ক্রয় করে প্যারিস সুইমিংপুল এন্টারটেইনমেন্ট নামে একটি রিসোর্ট নির্মাণ করেন।
‘প্যারিস সুইমিংপুল রিসোর্ট’ নির্মাণ করে গ্রামের মানুষের বিশ্বাস অর্জন করে মূলত প্রতরণা শুরু করে। প্রতারণার অভিযোগে জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা (এ নএসআ ই) সহায়তায় ২০২২ সালে র্যাব তাকে আটক গ্রেপ্তার করেন। এরপর থেকে তার প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে। জামিনে বের হয়ে সে আর ফুলবাড়িয়া আসেনি। স্থানীয়দের চাপে এক পর্যাায়ে প্যারিস সুইমিংপুল এন্টারটেইনমেন্ট নামের রিসোর্ট বন্ধ করে দেয়। এখনও বন্ধ রয়েছে।
গত রবিবার মধ্য রাতে পলাশবাড়ী উপজেলার শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির থেকে হরিদাস চন্দ্র তরুণীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পরলে ফুলবাড়িয়ায় আলোচনায় আসে প্রতারক তাওহীদ।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হরিদাস তরুণী গরীবদের টিউবওয়েল, ল্যট্রিন, পাকা ঘর নির্মাণ ও বেকার যুবকদের সরকারি বেসরকারি চাকুরি দেওয়ার প্রলুব্দ করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। বিভিন্ন অজুহাতে ব্যবসায়িদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা ঋণ নেন। র্যাবের হাতের গ্রেপ্তারের পর জামিনে বেরিয়ে পাওনাদারদের টাকার চাপে গা ঢাকা দেন। হরিদাসের বহুরুপি প্রতারণায় ফুলবাড়িয়া উপজেলার অসংখ্য পরিবার নিঃস্ব হয়েছেন। হরিদাস তরুণী নিজেকে প্রভাবশালী পরিচয়ে প্যারিস সুইমিংপুল নামীয় এ রিসোর্টটিতে সুইমিংপুলে দর্শনার্থীদের উন্মুক্ত রাখেলেও এর আড়ালে কটেজে সুন্দরী নারীদেরকে দিয়ে পতিতাবৃত্তি করাতেন। এ নিয়ে স্থানীয় লোকজন প্রতিবাদ করে ওল্টো হামলার শিকার হয়েছেন।
এক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, আমার এক আত্মীয়র কাছ থেকে চাকুরি দেওয়ার নামে প্রতরণা করে প্রায় দশ লাখ টাকা নিয়েছে। অসংখ্য মানুষের সাথে প্রতরণা করে সে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। ভুক্তভোগী সেলিম মিয়া জানিয়েছেন, তাওহীদ সে প্রতারক আমার কাছ থেকে কয়েক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিল। প্রায় ৬ লাখ টাকা না দিয়ে এলাকা ছেড়েছে।
বাপ্পি/সা.এ
সর্বশেষ খবর
জেলার খবর এর সর্বশেষ খবর