বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে ইংল্যান্ড শিবিরে স্বস্তির খবর এসেছে। অসুস্থতা কাটিয়ে দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিডফিল্ডার ডেকলান রাইস আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত। একই সঙ্গে ডিফেন্ডার এজরি কনসাও দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠায় ইংল্যান্ডের শক্তি আরও বেড়েছে। ফলে পূর্ণশক্তির ইংল্যান্ডকে মোকাবিলার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে আর্জেন্টিনাকে।
আর্সেনালের মিডফিল্ডার রাইস কোয়ার্টার ফাইনালে নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে বিরতির সময় বদলি হয়েছিলেন। ম্যাচ শেষে ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল জানান, খেলার আগে টানা তিন দিন অসুস্থ থাকায় রাইস প্রায় পুরো সময়ই বিছানায় ছিলেন। তবে কানসাস সিটিতে ফিরে তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) আটলান্টার উদ্দেশে রওনা হওয়ার আগে শেষ অনুশীলনেও রাইস স্বাভাবিকভাবেই অংশ নেন। ফলে সেমিফাইনালে এলিয়ট অ্যান্ডারসনের সঙ্গে মিডফিল্ডে শুরুর একাদশে তার থাকার সম্ভাবনাই বেশি।
ইংল্যান্ড শিবিরে এজরি কনসাকে নিয়েও কিছুটা শঙ্কা ছিল। নরওয়ের বিপক্ষে ম্যাচে পায়ের পেশিতে টান লাগায় তাকে মাঠ ছাড়তে হয়েছিল। তবে অ্যাস্টন ভিলার এই ডিফেন্ডারও দ্রুত সেরে উঠছেন এবং ডান-ব্যাকে শুরুর একাদশে জায়গা পাওয়ার দৌড়ে রয়েছেন। এছাড়া চেলসির অধিনায়ক রিস জেমসকে আবারও প্রথম একাদশে দেখা যেতে পারে। কোয়ার্টার ফাইনালে বদলি হিসেবে নেমে ভালো করা বুকায়ো সাকাও শুরু থেকেই খেলতে পারেন।
এদিকে ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড সতীর্থদের আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, ইংল্যান্ড-আর্জেন্টিনার দীর্ঘদিনের ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা যেন খেলোয়াড়দের মনোযোগে কোনো প্রভাব না ফেলে।
পিকফোর্ড বলেন, "পুরো টুর্নামেন্টজুড়েই আমরা শিরোপা জয়ের ক্ষুধা দেখিয়েছি। অপ্রয়োজনীয় কোনো বিতর্ক বা ঝামেলায় জড়াইনি। সিদ্ধান্ত আমাদের পক্ষে যাক বা না যাক, আমরা দ্রুত নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে আবার খেলায় মনোযোগ দিই। এটাই আমাদের মানসিকতার পরিচয়।"
লিওনেল মেসির বিপক্ষে প্রথমবার মাঠে নামার সম্ভাবনা নিয়ে তিনি বলেন, "অবশেষে তার বিপক্ষে খেলতে পারব, এটা দারুণ অনুভূতি। ছোটবেলা থেকেই তাকে দেখে বড় হয়েছি। সবাই জানে তিনি কতটা অসাধারণ ফুটবলার। তবে আমাদের শুধু মেসিকে নয়, পুরো আর্জেন্টিনা দলকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।"
বুধবারের সেমিফাইনালকে ঘিরে আটলান্টায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। দুই দেশের হাজারো সমর্থক স্টেডিয়ামে উপস্থিত থাকবেন। দর্শকদের আসনের একটি অংশ আলাদাভাবে ভাগ করা না থাকায় সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে বাড়তি সতর্ক রয়েছে আয়োজকরা।
তবে ম্যাচের আবহ বা গ্যালারির উত্তেজনায় ভেসে যেতে নারাজ পিকফোর্ড।
তিনি বলেন, "এটি দুটি আবেগপ্রবণ সমর্থকগোষ্ঠীর উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত একটি ফুটবল ম্যাচ। ফুটবল মানুষকে এবং জাতিকে এক করে। ইংল্যান্ড ও আর্জেন্টিনা—দুই দেশই গর্বিত ফুটবল জাতি। পাশাপাশি স্পেন ও ফ্রান্সও বিশ্বের সেরা চার দলের মধ্যে রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য একটাই—আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠা।"
২০১৮ বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল এবং ২০২১ ও ২০২৪ ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ হওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলেও পিকফোর্ড এখনো ক্লাব বা জাতীয় দলের হয়ে বড় কোনো শিরোপা জিততে পারেননি। তবে তার মতে, বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন নিয়ে এখনই ভাবার সময় নয়; আপাতত দলের পুরো মনোযোগ সেমিফাইনালেই।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর