বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত নৌপথ হরমুজ প্রণালিতে আবার বড় ধরনের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী জাহাজে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। এই হামলায় এক ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও আটজন নাবিক। আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতের এবং দুজন ইউক্রেনের নাগরিক বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে চারজনের অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক।
সোমবার (১৩ জুলাই) ওমানের জলসীমায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। মঙ্গলবার(১৪ জুলাই) ভারতের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সোমবার ওমানের জলসীমা দিয়ে যাওয়ার সময় ‘মোমবাসা’ এবং ‘আল বাহিয়াহ’ নামের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। সংযুক্ত আরব আমিরাত এই বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই হামলা আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন। নিজেদের এবং এই অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও হুশিয়ারি দিয়েছে দেশটি।
এই হামলার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্বজুড়ে ব্যাপক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্ক এখন যুদ্ধাবস্থায় পৌঁছেছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি তেলের এক বিশাল অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে নতুন করে শুরু হওয়া এই সংঘাতের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে। আজ বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৮ শতাংশ বেড়ে গেছে। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম এখন ৮১ দশমিক ৯২ মার্কিন ডলারে এসে ঠেকেছে।
এদিকে হামলার ঘটনার পরপরই মার্কিন সামরিক বাহিনী পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম জানিয়েছে, তারা ইরানে নতুন করে বিমান হামলা শুরু করেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সামরিক সক্ষমতা পুরোপুরি ধ্বংস করতেই এই তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলার বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এক বিবৃতিতে ট্রাম্প বলেন, আমরা ইরানকে অত্যন্ত কঠোরভাবে আঘাত করছি। তাদের সামরিক বাহিনীকে দুর্বল করে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আমরা হরমুজ প্রণালির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ আমাদের নিজেদের হাতে নিচ্ছি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব এখন থেকে যুক্তরাষ্ট্র পালন করবে। তবে এই পাহাড়াদারি বা নিরাপত্তার বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ আদায় করার পরিকল্পনা করছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিকে মুক্ত ও নিরাপদ রাখতে তাদের নৌসেনারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। যেকোনো ধরনের উসকানির দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছে তারা।
রোহান/সা.এ.
সর্বশেষ খবর
সারাবিশ্ব এর সর্বশেষ খবর