বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেওয়ার পর স্পেনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সঙ্গে বর্তমান দলের মিল। অনেকের মতে, লা রোজার এবারের যাত্রাপথ অনেকটাই ২০১০ সালের শিরোপাজয়ী অভিযানের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে।
ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে ওঠার আগে স্পেনকে নিয়ে খুব বেশি প্রত্যাশা ছিল না। অপরদিকে কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে ফ্রান্সকে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। তবে মাঠের লড়াইয়ে সব হিসাব পাল্টে দেয় লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল।
বিশ্লেষকদের মতে, এবারের স্পেনের খেলার ধরনে ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের ছাপ স্পষ্ট। বলের দখলে আধিপত্য, সংগঠিত রক্ষণ এবং ধৈর্য ধরে ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল- সবকিছুই সেই সময়ের দলের কথা মনে করিয়ে দেয়।
২০১০ বিশ্বকাপে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ফেবারিটের তকমা নিয়ে খেলতে নেমেও প্রথম ম্যাচে সুইজারল্যান্ডের কাছে হেরে গিয়েছিল স্পেন। এরপর ধারাবাহিকভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে এক গোলের ব্যবধানে একের পর এক ম্যাচ জিতে শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়ে তারা।
এবারের বিশ্বকাপেও শুরুটা ছিল হতাশাজনক। উদ্বোধনী ম্যাচে কেপ ভার্দের কাছে হেরে সমালোচনার মুখে পড়ে লা রোজা। তবে সেই ধাক্কা কাটিয়ে দলটি ধীরে ধীরে নিজেদের ছন্দ ফিরে পায় এবং সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান স্পেন শুধু ২০১০ সালের দলকে অনুসরণই করছে না, বরং নিজেদের খেলার ধরনেও পরিবর্তন এনেছে। এক সময়ের টিকি-টাকা নির্ভর ধীরগতির ফুটবলের পরিবর্তে এখন দলটি আরও গতিময়, আক্রমণাত্মক ও উইঙ্গারনির্ভর ফুটবল খেলছে।
যদিও ইউরো ২০২৪-এর দুই তারকা লামিনে ইয়ামাল ও নিকো উইলিয়ামস ইনজুরির কারণে বিশ্বকাপের শুরুতে পুরোপুরি ফিট ছিলেন না, তারপরও কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে কৌশলে পরিবর্তন এনে দলকে আবারও সফলতার পথে ফিরিয়ে এনেছেন।
শক্তিশালী মিডফিল্ড, সুশৃঙ্খল রক্ষণ এবং প্রয়োজনমতো আক্রমণের সমন্বয়ে গড়া এই স্পেনকে অনেকেই ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের আধুনিক সংস্করণ হিসেবে দেখছেন। এখন তাদের সামনে একটাই লক্ষ্য—১৬ বছর পর আবারও বিশ্বকাপের শিরোপা ঘরে তোলা।
সূত্র: সিএনএন স্পোর্টস
সাজু/নিএ
সর্বশেষ খবর