• ঢাকা
  • ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই, ২০২৬
  • শেষ আপডেট ১ মিনিট পূর্বে
আবুবকর সম্পদ
জবি প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ১৬ জুলাই, ২০২৬, ১১:১৭ রাত

আ. লীগ সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে জবি অধ্যাপক আইনুল ইসলামকে ক্যাম্পাসছাড়া করলেন শিক্ষার্থীরা

ছবি: প্রতিনিধি, বিডি২৪লাইভ

ছাত্রদল ও ছাত্রশক্তি নেতাকর্মীদের বিক্ষোভের মুখে ক্যাম্পাস ত্যাগ করলেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের নবনিযুক্ত ডিন অধ্যাপক আইনুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার দুপুরে আইনুল ইসলামকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে তার অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রদল ও ছাত্রশক্তির নেতাকর্মীরা। সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন কার্যালয়ের সামনে কয়েক ঘণ্টাব্যাপী তাদের অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভের একপর্যায়ে আইনুল ইসলাম অফিস ত্যাগ করে চলে যান।

গত ১২ জুলাই অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আইনুল ইসলামকে দুই বছরের জন্য সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব দেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর চার দিনের মাথায় তাকে ক্যাম্পাস ছাড়তে হল।

ঘটনার বিষয়ে অধ্যাপক আইনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “কিছু ছেলেরা দলবল নিয়ে আমার অফিসে আসে। তারা আমাকে চলে যেতে বলে এবং ক্যাম্পাসে না আসার জন্য জোর করে। তারা শারিরিকভাবে কোনো ধরণের হেনস্তা করেনি কিন্তু তাদের কথাবার্তা শিক্ষার্থীসুলভ ছিল না। তাদের বাচনভঙ্গি উগ্র এবং বিশৃঙ্খল ছিল।”

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, “অধ্যাপক আইনুল চব্বিশের অগাস্টে শেখ হাসিনার সঙ্গে গণভবনে বৈঠক করেছিলেন এমন অভিযোগে কয়েকটি ছাত্র সংগঠন স্মারকলিপি দিয়েছিল। আজকে তারা জুলাই শহীদ দিবস পালন করছিল; তখন অধ্যাপক আইনুল ইসলামের রুমের দিকে যায়। আমাকে দুইজন শিক্ষক ফোন করে ঘটনাটি জানালে সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। তখন তারা বিভিন্ন স্লোগান দিলেও অভিযুক্ত শিক্ষককে নিরাপদে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে সহায়তা করেছি।”

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জুলাই অভ্যুত্থানের সময় অধ্যাপক আইনুল ইসলামের ভূমিকা বিতর্কিত ছিল। তিনি আওয়ামী লীগপন্থি শিক্ষক রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। ২০২৪ সালের ৩ অগাস্ট সরকার পতনের দুই দিন আগেও গণভবনে একটি বৈঠকে অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার এসব বিষয় সামনে এনে শিক্ষার্থীরা তার কাছে ব্যাখ্যা দাবি করেন। পরে কথা বলার একপর্যায়ে পরিস্থিতি ‘উত্তপ্ত’ হয়ে উঠলে আইনুল ইসলাম ডিন অফিস ত্যাগ করেন।

জাতীয় ছাত্রশক্তি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্য সচিব শাহিন মিয়া বলেন, “অধ্যাপক আইনুল ইসলামের জুলাই আন্দোলনবিরোধী অবস্থান এবং ৩ অগাস্ট গণভবনের বৈঠকে অংশগ্রহণের স্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এসব বিষয়ে তার কাছে জবাব চাইলে তিনি কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি। আমরা মনে করি, জুলাইয়ের চেতনার বিপরীতে অবস্থান নেওয়া কোনো ব্যক্তির বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার নৈতিক অধিকার নেই।”

এ বিষয়ে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান হিমেল বলেন, “ফ্যাসিবাদের যোগানদাতা শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান আগে থেকেই ছিল। যারা ফ্যাসীবাদের যোগান দিয়েছেন তাদের তালিকাও আমরা বিশ্ববদ্যালয় প্রশাসনের কাছে জমা দিয়েছি। সেই ধারাবাহিকায় আমরা আছি। তবে আমাদের আজকে সাংগঠনিক কোনো মুভমেন্ট ছিল না। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রদলের জুনিয়র নেতারা থাকতে পারে।”

এর আগে বুধবার ছাত্রশক্তির বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখ্য সংগঠক ফেরদৌস শেখ এক ফেইসবুক পোস্টে লেখেন, “আগামীকাল ১৬ জুলাই। ঠিক দুই বছর আগে এই দিনেই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে নীলদলের কিছু শিক্ষক, ছাত্রলীগ ও পুরান ঢাকার যুবলীগের হামলার শিকার হয়েছিলাম আমরা। সেই হামলায় আমি গুলিবিদ্ধ হই। আজ বিস্ময়ের সঙ্গে দেখছি, ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে যাকে আমরা দেখেছি, তাকেই প্রশাসন ডিনের দায়িত্ব দিয়েছে। আমি এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

“আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) আমি একা হলেও ফ্যাসিবাদী এই দোসরের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে অবস্থান নেব এবং তাকে ক্যাম্পাস থেকে বিতারিত করব, দেখি কোন প্রশাসন কি করে।”

তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে অধ্যাপক আইনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলোর অনেকগুলোই পুরোনো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। গণভবনের বৈঠকে আমি তৎকালীন রেজিস্ট্রার হিসেবে প্রশাসনের নির্দেশে গিয়েছিলাম। অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্য খতিয়ে দেখলেই বিষয়টি স্পষ্ট হবে।”

ঘটনার সময় প্রশাসনের সহযোগিতা পেয়েছেন কি না প্রশ্নে এই শিক্ষক বলেন, “উপাচার্যের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। প্রক্টর আধা ঘণ্টা পর এসেছেন ঠিকই কিন্তু ওদের কিছু না বলে আমাকেই বললেন চলে যেতে। পরে তারা আমাকে এগিয়ে দিয়েছেন।”

পদত্যাগ করবেন কি না প্রশ্নে তিনি বলেন, “ডিন হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পরপরই আমি ভেবেছিলাম পদত্যাগ করব। কিন্তু আজকের ঘটনার পর সেদিক থেকে সরে এসেছি। বিশ্ববিদ্যালয় আইন অনুযায়ী আমি দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়েছি। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা নিক। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে আমি রোববার থেকেই ক্যাম্পাসে নিয়মিত হব।”

সালাউদ্দিন/সাএ

বিডি২৪লাইভ ডট কম’র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
পাঠকের মন্তব্য:


BD24LIVE.COM
bd24live.com is not only a online news portal. We are a family and work together for giving the better news around the world. We are here to give a nice and colorful media for Bangladesh and for the world. We are always going fast and get the live news from every each corner of the country. What ever the news we reached there and with our correspondents go there who are worked for bd24live.com.
BD24Live.com © ২০২০ | নিবন্ধন নং- ৩২
Developed by | EMPERORSOFT
এডিটর ইন চিফ: আমিরুল ইসলাম আসাদ
বাড়ি#৩৫/১০, রোড#১১, শেখেরটেক, ঢাকা ১২০৭
ই-মেইলঃ [email protected]
ফোনঃ (০২) ৫৮১৫৭৭৪৪
নিউজ রুমঃ ০৯৬০৩২০২৪৩৪
মফস্বল ডেস্কঃ ০১৫৫২৫৯২৫০২
বার্তা প্রধানঃ ০৯৬০৩১৫৭৭৪৪
ইমেইলঃ [email protected]