কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকায় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি আওয়ামী লীগ। এবার দলটির নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ সীমিত করতে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কাছে প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
জামায়াতের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের পদধারী বা সক্রিয় নেতা-কর্মীদের স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন নির্বাচনে—সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ—অংশগ্রহণের অযোগ্য ঘোষণার বিধান প্রস্তাবিত নির্বাচনী আচরণবিধিতে যুক্ত করা হোক।
সম্প্রতি ইসির জ্যেষ্ঠ সচিবের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ প্রস্তাব দেয় দলটি। বিষয়টি নিশ্চিত করে জামায়াতের প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কোনো দলের নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ থাকা উচিত নয়। এ কারণেই ইসির কাছে এ প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, চিঠিতে আরও কিছু প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা কমিশন বিবেচনা করবে বলে তারা আশা করছেন।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হলে অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। পরবর্তী সময়ে নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন স্থগিত করলে তারা ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি।
সরকার আগামী অক্টোবর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা করছে। দলীয় প্রতীক ছাড়া এ নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত চেয়ে খসড়া আচরণবিধি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই জামায়াতে ইসলামী আওয়ামী লীগের নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ঠেকানোর প্রস্তাব দিয়েছে।
এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারে মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধের বিষয়টি স্পষ্ট করা, স্থানীয় সরকার প্রশাসকদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণা, প্রচারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারের জন্য নীতিমালা প্রণয়ন, প্রার্থিতা বাতিলের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রাখা, নির্বাচনী ক্যাম্পে প্রযুক্তি ব্যবহারের বিষয়ে স্পষ্ট বিধান এবং ভোটকেন্দ্রে সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহের অধিকার নিশ্চিত করার প্রস্তাবও দিয়েছে দলটি।
জামায়াতে ইসলামী আরও দুটি বিশেষ প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সংরক্ষিত নারী সদস্যপদ বাতিল করে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিটি ওয়ার্ডে সরাসরি ভোটে নারী সদস্য নির্বাচন এবং জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নির্বাচনের ভোটার নির্ধারণের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা।
কুশল/সাএ
সর্বশেষ খবর
রাজনীতি এর সর্বশেষ খবর